দুপচাঁচিয়া উপজেলা

বগুড়া দুপচাঁচিয়াতে ডোবা থেকে পাওয়া লাশের রহস্য উন্মোচন; গ্রেফতার ১

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় ২১ সেপ্টেম্বর ডোবা থেকে উদ্ধার হওয়া স্থানীয় কৃষক হুমায়ন কবিরের বস্তাবন্দি লাশের রহস্য উন্মোচন করে হত্যাকারীকে গ্রেফতার করেছে দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশ।

জানা যায়, বন্ধুর সাথে পানিয় ও টাবলেট জাতীয় মাদকদ্রব্য অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন করায় মৃত্যু হয় তার। পরে মাদক সেবনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে নিহতের বাবার কাছে মুঠোফোনে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়৷

এ ঘটনায় নিহতের বন্ধু হারুন অর রশিদ (৩৪) মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গ্রেফতার করেছে দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশ।

গ্রেফতার হওয়া হারুন পেশায় অটোরিকশা চালক ও ইসলামপুর খাঁ পাড়া মৃত মোশারফ হোসেনের ছেলে।

২২ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুর ১২ টায় এক সংবাদ সম্মেলনে জেলার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে বিষয়গুলো নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বিপিএম-সেবা।

পুলিশ সুপার জানান, নিহত হুমায়ুন কবির (৩৫) পেশায় একজন কৃষক ছিলেন ও তিনি দুপচাঁচিয়া উপজেলারইসলামপুর খাঁ পাড়ার আব্দুল ওহাবের ছেলে। ১৮ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে বাজারে আড্ডা দেওয়ার কথা বলে বের হয়ে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন রোববার ও সোমবার ১৯ সেপ্টেম্বর ও ২০ সেপ্টেম্বর নিহতের ব্যবহত মুঠোফোন থেকে তার বাবার কাছে ফোন করে কয়েক দফায় মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

এরমধ্যে গতকাল মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৯টার সময় নিহতের নিজ এলাকার একটি ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে থানা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সাহায্য তার বন্ধু হারুনকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার পর পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে তিনি জানায়, ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে তারা দু’জন বন্ধু তার অটোরিকশায় করে মাদকদ্রব্য কিনতে দুপচাঁচিয়া উপজেলা শহরে আসেন।
সেখান থেকে মাদকদ্রব্য কিনে তাদের নিজ এলাকা হারুনের বাড়িরে কেউ না থাকার সুযোগে সেখানে বসে পানীয় মাদকদ্রব্য ও ড্রাইডিল ট্যাবলেট একসাথে সেবন করতে থাকে।

একপর্যায়ে হুমায়ন কবির অতিরিক্ত মাদ্রকদ্রব্য সেবন করায় মাতলামি করতে থাকে ও বাথরুমে যেয়ে টিবওয়েল পাড়ে পড়ে যায়। তখন হারুন তাকে উঠানোর চেষ্টা করতে থাকে তবে অতিরিক্ত পরিমাণ মাদ্রকদ্রব্য সেবন করার কারণে হুমায়ন বেসামাল হয়ে যায়। হারুন পা দিয়ে নিহতের পিঠে জোরে কয়েকটি লাথি মারে এরপরও হুমায়ন সারা দেয় না।
কিছুক্ষণ পরে ভিকটিমের শরীর ঠান্ডা ও নিস্তেজ হয়ে যায় তখন হারুন বুঝতে পারে হুমায়ন মারা গেছে।

অনেক ভেবে কোন উপায় না পেয়ে ও সবদোষ তার কাঁধে আসবে ভেবে হারুন নিজ বাড়িতে থাকা রশি দিয়ে হুমায়নের গলায় বেধে টিবওয়েল পাড় থেকে টেনে নিয়ে বাড়ির উঠানে নিয়ে আসে। এরপর বাড়িতে থাকা একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তার ভিতরে ভিকটিমের লাশ ও ৬টি ইট উঠিয়ে নিজে কাধে করে নিহতের বাড়ির পাশে নিয়ে রাখে।
একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে পাশে থাকা একটি ডোবায় নেমে বস্তাবন্দি হুমায়নের লাশকে হারুন ডুবিয়ে দেয়।

এরপর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কৌশল হিসেবে অপহর‍ণ ও ভিকটিমের ব্যবহত মুঠোফোন ব্যবহার করে অপহরণ নাটক সাজায়।

পুলিশ সুপার আরও জানায়, আমরা গ্রেফতার হারুনকে আদালত পাঠিয়ে বিষয়গুলো আরও নিশ্চিত হতে রিমান্ড আবেদন করবো। পাশাপাশি দুপচাঁচিয়াতে মাদকদ্রব্য বিক্রি কারীদেরও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যানদের মধ্যে, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলী হায়দার চৌধুরী, (অপরাধ) আব্দুর রশিদ,(সদর সার্কেল ও মিডিয়া মুখপাত্র) ফয়সাল মাহমুদ, (সদর হেডকোয়ার্টার) হেলেনা আক্তার,
( সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার আদমদীঘি সার্কেল) নাজরান রউফ ও দুপচাঁচিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আলী উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button