
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় চাঁদাবাজদের দায়ী করে ভিডিও প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে পুলিশ বলছে, স্টুডিওর ভবনটি নিয়ে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রাত পৌনে ২টার দিকে ব্রাউনফিশ স্টুডিওর ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে হামলার পরের পরিস্থিতি তুলে ধরেন সালমান। ভিডিওতে ভাঙচুর হওয়া স্টুডিও ঘুরে দেখানোর পাশাপাশি কর্মীদের সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় তাঁকে। এ সময় স্টুডিওর কর্মীদের কয়েকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন।
লাইভে সালমান বলেন, ‘এটা আমাদের ব্রাউন ফিশ স্টুডিওর শেষ ট্রিপ। একটু আগে এখানে হামলা হয়েছে এবং পুরো স্টুডিও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে শিল্প, সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতে এমন নান্দনিক স্টুডিও আর দ্বিতীয়টি ছিল না। আজ সেই জিনিসটা ধ্বংস হয়ে গেল।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে কোনো কিছু করতে হলে কারও তোষামোদ না করা বা নিরাপত্তার জন্য টাকা না দেওয়ার পরিণতি এমন হতে পারে। পায়ের নিচের মাটি শক্ত না থাকলে বাংলাদেশে কিছু করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরে সালমান অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ভবনটির মালিক হয়ে থাকতে পারেন। তাঁর ধারণা, মালিকের কাছে চাঁদা বা এ ধরনের কিছু দাবি করা হয়েছিল। ভবনমালিকের সম্পত্তির ক্ষতি করতে গিয়ে তাঁর স্টুডিওর সম্পদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
জমি নিয়ে বিরোধের কথা পুলিশের
ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ইসিবি চত্বরের কাছে স্টুডিওটি যে ভবনে অবস্থিত, সেই জমি নিয়ে ‘নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেড’ ও মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিনের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরেই ভবনটিতে হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ওসি আরও জানান, হামলায় গোলাম মহিউদ্দিনের লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের কাছ থেকে ভবনের একটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে সেখানে স্টুডিও তৈরি করেছিলেন সালমান মুক্তাদির।
এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি গিয়াস উদ্দিন।
তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার



