বিনোদন
প্রধান খবর

জেমসের জন্মদিন আজ, গানে গানে চার দশকেরও বেশি সময়ের পথচলা

দেশীয় রক সংগীতের অন্যতম তারকা ও ‘নগর বাউল’খ্যাত মাহফুজ আনাম জেমসের জন্মদিন আজ। সময়ের সঙ্গে সংগীতের ভাষায় পরিবর্তন এসেছে, এসেছে নতুন প্রজন্মও। তবে গিটার হাতে চিরচেনা ‘গুরু’র সুরেলা কণ্ঠের গানে এখনো আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন অসংখ্য শ্রোতা। জন্মদিন উপলক্ষে নিজের ভাবনা ও সংগীত-সংস্কৃতির পরিবর্তন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই ব্যান্ড তারকা।

জন্মদিন উদযাপন প্রসঙ্গে জেমস বলেন, ‘জন্মদিন একটাই, তুমি যেদিন জন্মেছ। তারপর এগুলো তো আর জন্মদিন নয়। যেদিন জন্মেছ, আর যেদিন মৃত্যু হবে সেদিন মৃত্যুদিন-দুইটাই আছে। আমি কোনো সমাজ বদল করার জন্য আসিনি। সমাজকে আনন্দ দেওয়ার জন্য এসেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ তো বারবার জন্ম নেয় না। তাই বলব, জন্মদিন একটাই। আর আমি কোনো দিনই এভাবে বিশেষভাবে জন্মদিন উদযাপন করি না। এমনিতেই পরিবারের সঙ্গে থাকি, সময় কাটাই।’

সংগীত ও সংস্কৃতির পরিবর্তন নিয়েও নিজের ভাবনা তুলে ধরেন জেমস। তাঁর ভাষ্যমতে, অনেক আর্ট ফর্ম হারিয়ে গেছে। তবে কিছু আর্ট ফর্ম এখনো টিকে আছে, যেগুলো মানুষ প্যাশন ও ভালোবাসা থেকে ধরে রেখেছে।

‘নগর বাউল’ খ্যাত জেমসের জন্মদিন আজ

গান ও সংস্কৃতির স্বাভাবিক প্রবাহের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গান বানিয়েছে, মানুষ গান শুনবে, গাইবে। পথে-ঘাটে নিজের ইচ্ছামতো গাইবে, নিজের মতো করে গাইবে। সংস্কৃতি হচ্ছে নদীর মতো, এটা বয়ে চলবে। বাধা দিলে বরং বাধাগ্রস্ত হবে। যে যার গান করে যাচ্ছে, করুক। আর গান তো বানানোই হয়েছে তা মানুষকে শোনানোর জন্য এবং গাওয়ার জন্য।’

১৯৬৪ সালের ২ অক্টোবর নওগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন মাহফুজ আনাম জেমস। নওগাঁয় জন্ম হলেও তাঁর বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। সংগীতের প্রতি তীব্র টান থেকে পরিবারের সঙ্গে মতবিরোধের একপর্যায়ে ঘর ছাড়েন তিনি। এরপর চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে শুরু হয় তাঁর সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা এখনো চলমান।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে জেমস উপহার দিয়েছেন ‘লেইস ফিতা লেইস’, ‘নগর বাউল’, ‘দুষ্টু ছেলের দল’, ‘পালাবে কোথায়’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করো না’, ‘আমি তোমাদেরই লোক’ ও ‘কাল যমুনা’র মতো অ্যালবাম।

তাঁর জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে ‘তারায় তারায়’, ‘সুলতানা বিবিয়ানা’, ‘সুস্মিতার সবুজ ওড়না’, ‘হতেও পারে এই দেখা শেষ দেখা’, ‘কবিতা তুমি স্বপ্নচারিণী’, ‘দিদিমনি’, ‘বাবা কত দিন দেখি না তোমায়’, ‘গুরু ঘর বানাইলা কী দিয়া’, ‘লিখতে পারি না কোনো গান’ ও ‘এক নদী যমুনা’সহ অসংখ্য গান।

বাংলাদেশি সিনেমায় প্লেব্যাক করেও খ্যাতি অর্জন করেছেন জেমস। সংগীতে অবদানের জন্য পেয়েছেন দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বলিউডেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। তাঁর গাওয়া ‘ভিগি ভিগি’, ‘চাল চালে’, ‘আলবিদা’, ‘রিশতে’ ও ‘বেবাসি’ গানগুলোও শ্রোতামহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

তথ্যসূত্র: চ্যানেল ২৪

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button