
৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের জরুরিভিত্তিতে হামের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।
বুধবার সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে গ্যাভি (ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনার বৈশ্বিক জোট গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভ) থেকে ২১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডোজ হামের টিকা ধার হিসেবে নিচ্ছে সরকার। পরবর্তী সময়ে এই টিকা ফেরত দেওয়া হবে।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রায় শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক এই রোগে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগেই হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এখনো মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ২৫ শিশু, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ৬, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪, রাজশাহী, পাবনা ও গোপালগঞ্জে একজন করে এবং বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ৮টি শিশু মারা গেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা মোট রোগীর ৩৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। এরপর রয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, সিলেট ও রংপুর বিভাগ।
উল্লেখ্য, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সারা বছর ১২টি রোগ প্রতিরোধে ১০ ধরনের টিকা প্রদান করে। এর মধ্যে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে এমআর টিকাও রয়েছে। ইপিআইয়ের আওতায় সাধারণত ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের নিয়মিত এই টিকা দেওয়া হয় এবং এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশ শিশু টিকা পেয়ে থাকে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা



