আন্তর্জাতিক খবর
প্রধান খবর

অর্ধশতাব্দী পর চাঁদের কক্ষপথে মানুষ, ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের তারিখ ঘোষণা

দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর বিরতি কাটিয়ে মানবজাতিকে আবারও চাঁদের কক্ষপথে ফিরিয়ে নিতে ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস–২’ মিশনের তারিখ ঘোষণা করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ৬ মার্চ ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বিশালাকৃতির রকেট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এই রোমাঞ্চকর অভিযান।

এই মিশনে চারজন মহাকাশচারী চন্দ্রযানে করে চাঁদের চারপাশে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং অত্যন্ত কাছ থেকে চাঁদকে পর্যবেক্ষণ করবেন। তবে প্রস্তুতির অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে উৎক্ষেপণের তারিখ কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে নাসা।

সফল ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’

ঐতিহাসিক অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নাসা সফলভাবে ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’ বা পূর্ণ জ্বালানি ভরে উৎক্ষেপণের মহড়া সম্পন্ন করেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে কেনেডি স্পেস সেন্টারে এই পরীক্ষা চালানো হয়। এতে রকেটে ৭ লাখ গ্যালনেরও বেশি তরল জ্বালানি ভরা হয়েছিল।

চলতি মাসের শুরুতে প্রথম দফার মহড়ায় হাইড্রোজেন লিকের কারণে কিছুটা সমস্যা দেখা দিলেও দ্বিতীয় পরীক্ষায় প্রকৌশলীরা তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হন। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় জানান, এই সফল পরীক্ষা চাঁদের পরিবেশে আমেরিকার প্রত্যাবর্তনের পথে একটি বড় অগ্রগতি।

কারা যাচ্ছেন অভিযানে?

‘আর্টেমিস-২’ মিশনে অংশ নেওয়া চার নভোচারী হলেন:

  • রিড ওয়াইজম্যান
  • ভিক্টর গ্লোভার
  • ক্রিস্টিনা কোচ
  • জেরেমি হ্যানসেন (কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি)

প্রায় ১০ দিনের এই মহাকাশযাত্রায় নভোচারীরা প্রথমে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবেন। এরপর চাঁদের চারপাশে ‘ফিগার-এইট’ আকৃতির পথে উড্ডয়ন করবেন। তবে এই অভিযানে চন্দ্রযানটি চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবে না, কারণ ওরিয়ন মহাকাশযানটি বর্তমান কাঠামোয় পৃষ্ঠে অবতরণের জন্য তৈরি নয়।

রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা

নভোচারীরা চাঁদের দূরবর্তী পাশ অতিক্রম করার সময় অ্যাপোলো-১৩ মিশনের গড়া দূরত্বের রেকর্ড ভেঙে দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তারা মানুষের ইতিহাসে সবচেয়ে দূরে ভ্রমণকারী হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়বেন।

১৯৭২ সালে অ্যাপোলো–১৭ মিশনের পর এটিই হবে চাঁদের কক্ষপথে মানুষের প্রথম প্রত্যাবর্তন।

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: চাঁদ থেকে মঙ্গল

নাসার এই চন্দ্রাভিযানকে ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ‘আর্টেমিস–২’ সফল হলে পরবর্তী ধাপ আর্টেমিস-৩ বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ বা ২০২৮ সালের দিকে দীর্ঘ ৫৪ বছর পর মানুষ আবারও সরাসরি চাঁদের মাটিতে পা রাখতে পারে।

এদিকে চীনও ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের নেতৃত্ব বজায় রাখতে নাসা এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মিশনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button