
মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনের ব্যালটে তাঁর নাম ছিল না, নির্বাচনী প্রচারের পোস্টারেও ছিল না কোনো ছবি। তবু গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে রেখেছিলেন দেশটির সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। অবশেষে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।
৬৯ বছর বয়সী এই জেনারেল ২০২১ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেন। এরপর থেকেই তিনি দেশটির কার্যত শাসনক্ষমতায় রয়েছেন।
মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। গৃহযুদ্ধ চলার মধ্যেই অত্যন্ত সাবধানে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ সংঘাতে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির সীমান্তবর্তী বহু এলাকা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গৃহযুদ্ধ চলমান অবস্থার মধ্যেই অত্যন্ত সতর্কভাবে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে ক্ষমতার কাঠামো পুনর্গঠনের চেষ্টা করা হয়েছে।
গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে মিয়ানমারে কয়েক ধাপে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশটির বড় বিরোধী দলগুলো অংশ নিতে পারেনি। অং সান সু চির দল বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং অন্য প্রধান বিরোধী দলগুলোও নির্বাচনে অংশ নেয়নি। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে সেনাপ্রধান-সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি জয়লাভ করে।
জাতিসংঘ ও পশ্চিমা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ছিল না।
অভ্যুত্থানের পর থেকে মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের অনেক আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কেবল সীমিত কূটনৈতিক যোগাযোগ রেখেছেন। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত নয়-এমন গণমাধ্যমের সঙ্গে তিনি খুব কমই কথা বলেন।
হ্লাইংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা কয়েকজন ব্যক্তি এবং জান্তা রাজনীতিবিষয়ক দুই বিশ্লেষকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে রয়টার্স। তারা বলেছেন, মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট শুধু একজন কঠোর সেনাপ্রধানই নন, তিনি একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও দক্ষ। দেশের ক্ষমতাধর শ্রেণিকে পরিচালনার সূক্ষ্ম কৌশল তিনি ভালোভাবেই জানেন, যা তাকে ক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।
প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হতে গত সোমবার মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পাশাপাশি তিনি তার অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী ও সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান ইয়ে উয়িন উ–কে নিজের স্থলাভিষিক্ত করেন।
সেনাবাহিনীর প্রণীত সংবিধানের আওতায় প্রেসিডেন্টের ব্যাপক নির্বাহী ক্ষমতা থাকলেও সেনাবাহিনীর ওপর সরাসরি কর্তৃত্ব নেই। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, হ্লাইংয়ের উত্তরসূরি আপাতত তাকে শক্ত হাতে ক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করবেন।
সূত্র: প্রথম আলো



