আইন ও অপরাধপ্রধান খবর

২৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত দম্পতিকে গ্রেফতার করলো বগুড়া সদর থানা পুলিশ

পাঁচ বছর পলাতক থাকার পর ঢাকার ধানমন্ডি থেকে বগুড়া সদর থানা পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে ২৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত প্রতারক দম্পতিকে। ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিদেশি মুঠোফোন নাম্বার ব্যবহার করেও শেষ রক্ষা হলোনা এই প্রতারক দম্পতির।

গ্রেফতার দম্পতি, শহরের ফুলবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকার গোলাম মোস্তফা (৫১) ও তার স্ত্রী সুমাইয়া ফারজানা (৪১)।

বগুড়া সদর থানা পুলিশ সূত্র জানায়, মোস্তফা ঢাকার আদাবরে বেসরকারি একটি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। এজন্য ২০০৮ সালে ব্যাংক থেকে তার চাকরি চলে যায়। একপর্যায়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ২০১১ সালে তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।

তিনি ও তার স্ত্রী ২০১৩ সালে বগুড়ায় ফিরে এসে সদর উপজেলার হাজেরাদিঘীতে দুগ্ধ খামারে গড়ে তোলেন। সেখানে স্থানীয়দের চাকরি দেওয়া কথা বলে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।

সেখানে প্রতারণার সব পাঠ চুকিয়ে এবার স্ত্রী সুমাইয়াকে নিয়ে ঢাকায় ফেরত যান মোস্তফা। ঢাকাতে ২০১৫ সালে কথিত হজ্জ এজেন্সি গড়ে তোলেন। তার নিজ এলাকার ও তার স্ত্রীর বাপের বাড়ি জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের মানুষদের হজ্জে পাঠানোর কথা বলে সেখানেও লাখ লাখ টাকা তারা উভয়ে আত্মসাৎ করেন।

তিন খাতে প্রাতারণায় মোস্তফার বিরুদ্ধে ১৮ টি মামলা দায়ের হয়। ২০১৭ সালে প্রথম একটি মামলায় তাকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। এরপর প্রতারক দম্পতি নিজেদের জাতীয় পরিচয় পত্র বদলিয়ে দুবাই পালিয়ে যায়। এর মাঝে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মোট ৯ মামলায় মোস্তফাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। পাশাপাশি ২০১৯ সালে তার স্ত্রীর সুমাইয়ার প্রতারণার একটি মামলায় ১ বছরের কারাদণ্ড হয়।

প্রতারক এই দম্পতি আবারও দেশে ফিরে এসে নিজেদের পরিচয় গোপন করে ঢাকার ধানমন্ডিতে বসবাস শুরু করেন। পাশাপাশি নিজেদের মুঠোফোনে দুবাইয়ের নাম্বার ক্লোন করে ব্যবহার করতে থাকেন। যাতে করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের শনাক্ত করতে না পারে।

তবে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ প্রতারক দম্পতিকে শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে গ্রেফতার করে।

বগুড়া সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির আল আহসান জানান, গ্রেফতার দম্পতি প্রাতরাণার সব কৌশল জানতো। দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর তাদের গ্রেফতারে সক্ষম হয়েছি আমরা। আজ তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এসএ

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button