লাইফস্টাইল
প্রধান খবর

ডেঙ্গু সুরক্ষায় কী করবেন, জানুন লক্ষণ-পরীক্ষা-চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়

বর্ষা কিংবা আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। এডিস মশার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসজনিত রোগটি সঠিক সময়ে শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনা করা না হলে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ডেঙ্গু কী এবং কীভাবে ছড়ায়?

ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত সংক্রমিত এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। এ মশা সাধারণত সূর্যোদয়ের পর সকালে এবং সূর্যাস্তের আগে বিকেলে বেশি সক্রিয় থাকে। ড্রাম, ফুলের টব, পুরোনো টায়ার কিংবা বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা বংশবৃদ্ধি করে।

ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণ

হঠাৎ তীব্র জ্বর: শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত উঠতে পারে।

চোখ ও হাড়ে ব্যথা: চোখের পেছনে তীব্র ব্যথা এবং হাড় ও পেশিতে অসহ্য যন্ত্রণা হতে পারে। এ কারণে ডেঙ্গুকে অনেক সময় ‘ব্রেকবোন ফিভার’ বলা হয়।

অন্যান্য লক্ষণ: অতিরিক্ত বমি বমি ভাব, বমি, মাথাব্যথা এবং ত্বকে র‍্যাশ বা লালচে দাগ দেখা দিতে পারে।

রক্তপাতের ঝুঁকি: পরিস্থিতি জটিল হলে নাক বা মাড়ি থেকে হালকা রক্তপাত হতে পারে, যা ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বরের পূর্বলক্ষণ হতে পারে।

সঠিক শনাক্তকরণে যেসব পরীক্ষা করা হয়

রোগের অবস্থা বুঝতে চিকিৎসকেরা সাধারণত কয়েক ধরনের পরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

১. অ্যান্টিজেন টেস্ট: জ্বর আসার প্রথম ১ থেকে ৩ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্তে এই পরীক্ষা কার্যকর।

২. সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট): রক্তে প্লেটলেট (অনুচক্রিকা) এবং শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়মিত এই পরীক্ষা করা হয়।

৩. অ্যান্টিবডি টেস্ট: রোগের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই পরীক্ষা সাম্প্রতিক বা পুরোনো সংক্রমণ নির্ধারণে সহায়তা করে।

ডেঙ্গুর চিকিৎসা ও খাদ্যাভ্যাস

ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। তাই লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাই এর মূল ভিত্তি।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম: রোগীকে পর্যাপ্ত শারীরিক বিশ্রামে থাকতে হবে।

প্রচুর তরল গ্রহণ: স্যালাইন, ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও স্যুপ শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।

ব্যথানাশক ব্যবহারে সতর্কতা: জ্বর বা ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ব্যথানাশক না খাওয়াই জরুরি, কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

প্রতিরোধেই সুরক্ষা

১. জমে থাকা পানি অপসারণ: বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করুন। বিশেষ করে এডিস মশার প্রজননস্থল হতে পারে এমন পাত্র খালি ও পরিষ্কার রাখুন।

২. ব্যক্তিগত সুরক্ষা: দিনের বেলাতেও হাত-পা ঢাকা পোশাক পরিধান করুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মশারি ব্যবহার করুন।

৩. মশা তাড়ানোর ব্যবস্থা: খোলা চামড়ায় মশানিরোধক ক্রিম বা রিপেলেন্ট ব্যবহার এবং ঘরে জানালা-দরজায় জালির ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন।

ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রক্তপাত, তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button