
চিনি নাকি গুড়-চায়ে কোনটি ব্যবহার করা ভালো, তা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। স্বাস্থ্যসচেতন অনেকেই চায়ে সাদা চিনি বাদ দিয়ে গুড় বা মধু ব্যবহার করছেন। কিন্তু চিনির পরিবর্তে গুড় ব্যবহার করলেই কি সব ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব? পুষ্টিবিদদের মতে, বিষয়টি এতটা সরল নয়।
অনেকে মনে করেন, গুড় খেলে ওজন বাড়ে না কিংবা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে এ ধারণা সঠিক নয়। গুড়ও মূলত চিনি ও ক্যালরির উৎস। তাই পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি।
পুষ্টিবিদদের মতে, এক টেবিল চামচ সাদা চিনি ও এক টেবিল চামচ গুড়-দুটিই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্যালরি সরবরাহ করে। গুড় খেলে রক্তে শর্করার মাত্রাও বাড়তে পারে। ফলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য চিনির বিকল্প হিসেবে গুড়কে অবাধে ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।
পুষ্টি উপাদানে গুড় কিছুটা এগিয়ে
তবে সাদা চিনির তুলনায় গুড়ের একটি পার্থক্য রয়েছে এর প্রক্রিয়াজাতকরণে। সাদা চিনি তৈরির সময় ব্যাপক পরিশোধন করা হয়। অন্যদিকে গুড় তুলনামূলকভাবে কম প্রক্রিয়াজাত হওয়ায় এতে কিছু খনিজ উপাদান থাকতে পারে।
গুড়ে সামান্য পরিমাণে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম পাওয়া যায়। তবে এসব পুষ্টি উপাদান পাওয়ার জন্য বেশি পরিমাণে গুড় খাওয়া ঠিক নয়। কারণ গুড়েও চিনি ও ক্যালরি থাকে।
গুড় হজমশক্তি বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে বা শরীর ও লিভার ‘ডিটক্স’ করে-এ ধরনের প্রচলিত দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত। তাই এসব দাবিকে স্বাস্থ্যগত নিশ্চিত সুবিধা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
বাজারের গুড় কতটা নিরাপদ?
গুড় তুলনামূলকভাবে কম প্রক্রিয়াজাত হলেও বাজারে পাওয়া সব গুড় সমান মানের নয়। ভেজাল বা নিম্নমানের গুড়ে অনাকাঙ্ক্ষিত উপাদান থাকতে পারে। তাই গুড় কিনলে পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে মানসম্মত গুড় নেওয়া ভালো।
তাহলে চিনি নাকি গুড়?
ডায়াবেটিস বা ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চিনির বদলে গুড়কে ‘নিরাপদ বিকল্প’ ভাবার সুযোগ নেই। দুটিই পরিমিত খাওয়া উচিত। যাদের ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে মিষ্টি জাতীয় খাবার ও মিষ্টিকারক ব্যবহারের পরিমাণ চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা ভালো।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সুপারিশ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের খাদ্যে মুক্ত শর্করা (free sugars) মোট দৈনিক শক্তি গ্রহণের ১০ শতাংশের নিচে রাখা উচিত; আরও স্বাস্থ্যগত সুবিধার জন্য তা ৫ শতাংশের নিচে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
চিনি-গুড় ছাড়াও সুস্বাদু চা
চায়ে চিনি বা গুড় ব্যবহার না করেও স্বাদ বাড়ানো যায়। এজন্য পানি, দারুচিনি ও থেঁতো করা এলাচি একসঙ্গে নিয়ে ৩ থেকে ৪ মিনিট ফুটিয়ে নিতে পারেন। মসলার সুগন্ধ বের হলে চা-পাতা দিয়ে লিকার তৈরি করুন। এরপর দুধ দিয়ে মাঝারি আঁচে ভালোভাবে ফুটিয়ে ছেঁকে নিন।
এভাবে চিনি বা গুড় ছাড়াই সুগন্ধি ও সুস্বাদু চা তৈরি করা সম্ভব। তবে শেষ পর্যন্ত চিনি কিংবা গুড়-যেটিই ব্যবহার করুন না কেন, মূল বিষয় হলো পরিমাণে সংযম।
তথ্যসূত্র: হেলথলাইন ও ভেরিওয়েল হেলথ



