
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ ঘিরে মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সংসদ ভবনে ছিল ব্যস্ত ও আলোচিত এক দিন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবার শপথ পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।
মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে প্রথমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
কেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়ালেন
সাধারণত নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পাঠ করান। তবে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সংসদ কার্যত অকার্যকর, স্পিকার পদ শূন্য এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকায় এবার ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে শপথ পাঠ করাতে হয়।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি বিএনপি
শপথ অনুষ্ঠানের আগে সংসদ ভবনে বিএনপির নির্বাচিত এমপিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবেন না।
তিনি বলেন,
“আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। সংবিধানে এখনো এই পরিষদের বিধান অন্তর্ভুক্ত হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী আগে সংবিধানে বিষয়টি যুক্ত করতে হবে এবং কে শপথ পড়াবেন তারও বিধান থাকতে হবে।”
তিনি আরও জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর নির্দেশেই এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। তারেক রহমান নিজেও এ সময় শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এরপর বিএনপির এমপিরা শুধুমাত্র সংসদ সদস্য হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছ থেকে শপথ নেন।
সংসদীয় দলের বৈঠক ও বড় সিদ্ধান্ত
শপথ গ্রহণ শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
এ বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়-
বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য শুল্কমুক্ত (ডিউটি-ফ্রি) গাড়ি নেবেন না
সরকারি বরাদ্দে কোনো প্লট গ্রহণ করবেন না
জামায়াতের শপথ
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য—উভয় হিসেবেই শপথ গ্রহণ করেন। তাদের শপথও পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। এবারের নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে।
এনসিপির প্রতিক্রিয়া
শপথ গ্রহণ ও সরকার গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনাও এসেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেন,
“জুলাই সনদ ও অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে গাদ্দারি করেই বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু হলো।”
উল্লেখ্য, সারজিস আলম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।
সব মিলিয়ে, শপথ গ্রহণের দিনটিতে এখন পর্যন্ত কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং সংবিধান সংস্কার, রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনির্দেশনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিয়েছে দেশের রাজনীতিকে।



