
বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার প্রশাসনে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে-এ প্রশ্ন এখন দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
তবে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরকারের আগ্রহ কতটা-তা নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর এ নিয়ে বিতর্ক আরও বেড়েছে।
সম্প্রতি দেশের ১১টি সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এসব পদে মূলত শাসকদল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে নির্বাচনের আগেই স্থানীয় প্রশাসনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।
সংসদের বিরোধী দলগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা বলছে, ভোট ছাড়াই দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা।
সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, স্থানীয় প্রশাসনে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ সরকারের প্রতি মানুষের আস্থায় সংকট তৈরি করতে পারে। দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হলে সরকারের জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তার মতে, স্থানীয় সরকারে অতিরিক্ত দলীয়করণ গণআন্দোলনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আলীম বলেন, প্রশাসক নিয়োগ আইনগতভাবে অবৈধ নয়। তবে নির্বাচিত প্রতিনিধি ও নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকের দায়বদ্ধতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন সচল রাখতেই প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।
তিনি জানান, সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে চায় এবং এর জন্য প্রায় তিন মাস সময় প্রয়োজন হতে পারে। তার মতে, নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জেলা পরিষদের নির্বাচন কিছুটা পরে আয়োজন করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইস্যুটি ঈদের পর দেশের রাজনীতিতে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা



