
শুক্রবার (জুমার দিন) ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতময় একটি দিন। হাদিসে এসেছে, সূর্যোদয় হওয়া দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনই সর্বোত্তম। এ দিনেই হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয় এবং কিয়ামতও এ দিনেই সংঘটিত হবে।
জুমার দিনের ফজিলত লাভের জন্য মুসলমানদের কিছু বিশেষ আমল করার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। নিচে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি আমল তুলে ধরা হলো-
১. গোসল করা
জুমার নামাজের আগে গোসল করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। এটি পরিচ্ছন্নতা ও ইবাদতের প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল।
২. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পোশাক পরা
ভালো ও পরিষ্কার পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং নিজেকে পরিপাটি রাখা জুমার দিনের সুন্নত।
৩. আগেভাগে মসজিদে যাওয়া
জুমার নামাজের জন্য যত দ্রুত সম্ভব মসজিদে উপস্থিত হওয়া এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
৪. বেশি বেশি দোয়া করা
জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করেন। তাই এ দিনে বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।
৫. সূরা আল-কাহফ তিলাওয়াত
শুক্রবার সূরা আল-কাহফ পাঠের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হাদিসে এ আমলের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।
৬. বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ
নবী করিম (সা.)-এর প্রতি জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা উত্তম আমল।
৭. নামাজের পর জিকির ও ইস্তিগফার
জুমার নামাজ শেষে আল্লাহর জিকির, তাসবিহ, তাহলিল ও ইস্তিগফার করা ঈমানকে শক্তিশালী করে।
৮. প্রথম কাতারে নামাজ আদায়ের চেষ্টা
সম্ভব হলে আগে মসজিদে গিয়ে প্রথম কাতারে জায়গা নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। এতে বিশেষ সওয়াব রয়েছে।
৯. আজানের পর দুনিয়াবি কাজ থেকে বিরত থাকা
জুমার আজান হওয়ার পর ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য ব্যস্ততা ছেড়ে দ্রুত নামাজের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া কোরআনের নির্দেশ।
১০. বেশি বেশি নেক আমল করা
দিনজুড়ে কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা, জিকির, তাওবা ও আল্লাহর স্মরণে সময় কাটানো জুমার দিনের অন্যতম উত্তম আমল।
জুমার দিনের শিক্ষা
জুমার দিন শুধু সাপ্তাহিক জামাতের দিন নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি বিশেষ সুযোগ। এ দিনের আমলগুলো আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করলে একজন মুসলমান আল্লাহর রহমত, ক্ষমা ও বরকত লাভের আশা করতে পারেন।