জাতীয়
প্রধান খবর

এমপিও শিক্ষকদের জন্য সুখবর, বাড়ছে মূল বেতন ও ভাতা

দীর্ঘদিনের আর্থিক বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত নবম পে স্কেলের আওতায় মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি ধাপে ধাপে অন্যান্য ভাতাও সমন্বয় করা হবে।

শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তিন অর্থবছরে এই নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নতুন অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ আগামী জুলাই থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীরা এ আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নতুন কাঠামোর আওতায় আনা হবে। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২৬ হাজার ৯৩টি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৮৯৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সংকটের কথা জানিয়ে আসছিলেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের মহাসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী আসন্ন বাজেটে এ বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে আগামী ১ জুলাই থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতাও দ্বিতীয় ধাপে বাড়ানো হচ্ছে। গত বছরের নভেম্বরে কার্যকর হওয়া সাড়ে ৭ শতাংশের সঙ্গে আরও সাড়ে ৭ শতাংশ যুক্ত হয়ে বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশে উন্নীত হবে। তবে সর্বনিম্ন ভাতা হবে দুই হাজার টাকা।

নতুন কাঠামোতে সরকারি পর্যায়ে মূল বেতন ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে চতুর্থ গ্রেডভুক্ত অধ্যক্ষদের বর্তমান ৫০ হাজার টাকার মূল বেতন বেড়ে ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত হবে।

এ ছাড়া ষষ্ঠ ও সপ্তম গ্রেডের সহকারী অধ্যাপক, উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের বেতনও আনুপাতিক হারে বাড়বে। নবম গ্রেডের প্রভাষকদের বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৩৩ হাজার এবং দশম গ্রেডের বিএডধারী সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার টাকায় উন্নীত হতে পারে।

তবে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ৫০ শতাংশ এবং ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দুটি আলাদা প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।

সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম বছরে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে পুরো মূল বেতন কার্যকর করা হবে। তৃতীয় বছরে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা সম্পূর্ণরূপে সমন্বয় করা হবে।

তথ্যসূত্র: সময় টিভি

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button