
গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দেশজুড়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে লোডশেডিং। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের কোথাও কোথাও দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় ক্ষোভও বাড়ছে। কোথাও কোথাও পল্লী বিদ্যুতের কার্যালয় ও উপকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর অফিস, গ্রিড ও উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুলিশের কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর আওতাধীন এলাকায় দৈনিক গড়ে ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। ফলে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
কেন এত লোডশেডিং?
বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, চলমান সংকটের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়া। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে সমস্যার কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছে না।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৫২৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট।

এর পাশাপাশি কয়লা সরবরাহের ঘাটতি ও বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি সমস্যাও উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের বেসরকারি কেন্দ্র ও জ্বালানি আমদানিকারকদের বকেয়া বিলও সংকটকে আরও জটিল করছে।
সন্ধ্যা থেকে পরিস্থিতি উন্নতির আশা
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানিয়েছেন, সংকট মোকাবিলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে একটি কৌশল কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে বুধবার সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে এলএনজি সরবরাহ বাড়াতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে। সেখান থেকে অন্তত একটি এলএনজি কার্গো পাওয়ার আশা করছে সরকার। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ চেম্বারের কাছেও এলএনজি সরবরাহের বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে মার্কেট-শপিংমল
চলমান বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।
এ ছাড়া সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ এবং সব ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও রাত ৮টার মধ্যে শেষ করতে হবে।
তবে খাবারের দোকান, হাসপাতাল, ওষুধের দোকানসহ জরুরি সেবাগুলো এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে।
সব মিলিয়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি এবং লোডশেডিং পুরোপুরি কমার সম্ভাবনা কম। ফলে তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে জনদুর্ভোগ আরও কতটা বাড়ে, সেটিই এখন বড় উদ্বেগ।
তথ্যসূত্র: বিবিসি

