
আগামী সেপ্টেম্বর মাসে বসতে যাওয়া জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে। সেই অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনে আহত আটজনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তে সেগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হলে দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে।
অপরাধ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে আইনমন্ত্রী বলেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা করা হবে না। তিনি বলেন, “যত বড় রাজনৈতিক নেতাই হোক না কেন, ধর্ষণের কোনো মামলা প্রত্যাহার করা হবে না।”
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, যৌথ উদ্যোগ ও কূটনৈতিক আলোচনার ফলে বর্তমানে বিএসএফের গুলিতে সীমান্তে নিহতের ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তার মেয়াদ থাকার কথা থাকলেও, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি পদত্যাগ করেন।
তার প্রায় তিন বছরের দায়িত্বকালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে। এ সময় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দায়িত্ব পালনকালে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।
তথ্যসূত্র:
