
রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম এমপি, বিরোধী দলের চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এমপি এবং হুইপবৃন্দ আলহাজ্ব মো. জি. কে. গউছ এমপি, রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এমপি, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এমপি ও এ. বি. এম. আশরাফ উদ্দিন (নিজান) এমপি অংশ নেন।
সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর সর্বক্ষেত্রে ফ্যাসিস্টমুক্ত করতে হবে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬ একটি ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ।
সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ ব্যবহার, প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট প্রদান এবং সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ-সংক্রান্ত কার্যবিবরণী প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ অনুমোদন করা হয়। এ ছাড়া নির্বাচন উপলক্ষে প্রয়োজনীয় সব ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ৩ ধারা অনুযায়ী এ নির্বাচন পরিচালনা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ভোটগ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে সংসদ ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সর্বশেষ তথ্য ও ভোট দেওয়ার নিয়ম তুলে ধরেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
প্রচলিত আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সাধারণ নির্বাচনের মতো গোপন ব্যালটে হবে না। সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্য পদ্ধতিতে ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। প্রত্যেক সংসদ সদস্যের ভোট হবে একটি।
ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যালট পেপার প্রস্তুত করবে। প্রতিটি ব্যালট পেপারে দুটি আলাদা অংশ থাকবে-কাউন্টার ফয়েল ও আউটার ফয়েল।
কাউন্টার ফয়েলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম ও তার নির্ধারিত বিভক্তি নম্বর মুদ্রিত থাকবে। সেখানে ভোটারের স্বাক্ষরের জন্য নির্দিষ্ট স্থানও থাকবে। অন্যদিকে আউটার ফয়েলে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম আদ্যাক্ষরের ক্রমানুসারে আলাদা ঘরে ছাপানো থাকবে। প্রত্যেক প্রার্থীর নামের পাশে ভোট দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকবে। একই অংশে ভোটারের বিভক্তি নম্বরও উল্লেখ থাকবে।
ভোট দেওয়ার সময় প্রথমে সংসদ সদস্যকে নিজের নির্ধারিত ব্যালট পেপারের কাউন্টার ফয়েলে স্বাক্ষর করতে হবে। এরপর আউটার ফয়েলে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্দিষ্ট স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে। স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার পর ব্যালট পেপারটি নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দিতে হবে।
অর্থাৎ, এ নির্বাচনে সাধারণ গোপন ভোটের মতো ব্যালটে কোনো টিক চিহ্ন বা সিল ব্যবহার করা হবে না। যে প্রার্থীকে সংসদ সদস্য ভোট দেবেন, তার নামের পাশে নিজের নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। ফলে ভোটটি কার দেওয়া এবং কোন প্রার্থীকে দেওয়া হয়েছে, তা স্বাক্ষরের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনে ‘বিভক্তি নম্বর’-এরও নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে যে নির্দিষ্ট নম্বর দেওয়া হয়, সেটিই তার বিভক্তি নম্বর। আর ব্যালট পেপারের কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়ি বাদ দিলে যে অংশ অবশিষ্ট থাকে, সেটিকে আউটার ফয়েল বলা হয়।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর


