সংক্রমণ ফের বাড়ার আশঙ্কা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, বর্তমানে দেশে করোনা সংক্রমণ নেই বললেই চলে। কিন্তু বিশ্ব পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে সংক্রমণ ফের বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, ভারতে সংক্রমণ বাড়ছে, সেখানে দেশের অনেক মানুষ যাতায়াত করছেন। তাদের নজরে রাখতে হবে। রবিবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর মহাখালীতে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানে (নিপসম) জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ১৩ কোটি মানুষ এখন টিকার আওতায় চলে এসেছে। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশও এত টিকা দিতে পারেনি। এখনও যারা টিকা নেয়নি, তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই নিচ্ছেন না।
জাহিদ মালেক বলেন, গত ১০ বছরের স্বাস্থ্য বিভাগের অভূত উন্নতি হয়েছে। দেশ এগিয়ে যেতে হলে মানুষকে সুস্থ থাকতে হবে। এ জন্য পুষ্টি অপরিহার্য। আমাদের দেশে পুষ্টি সেবার অনেক উন্নতি হয়েছে। প্রাইমারি হেলথ কেয়ারে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিয়েছে সরকার। সেখানে চিকিৎসার পাশাপাশি পুষ্টি নিয়ে সচেতন করা হয়। অতিরিক্ত তেল ও লবণ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, শাক-সবজি ও ফলমূল খেতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা কী খাচ্ছি সেটা দেখতে হবে। সংক্রামক ব্যাধি যক্ষা, পোলিও, ম্যালেরিয়া, এইডস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে অসংক্রামক রোগ যেগুলো মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত সেগুলো বাড়ছে। আমাদের পরিমিত খেতে হবে। পুরো দেশে যখন করোনা ছড়িয়ে পড়ে, তখন ভিটামিন সি, ডি ও জিংক খেতে বলি। এতে করে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
ক্যালরিতে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে উল্লেখ করে জাহিদ মালেক বলেন, এখনও ১০-১৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে, কিন্তু কেউ না খেয়ে থাকে না। খাদ্যের অভাব যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দেশে খর্বাকৃতির মানুষের হার যেখানে আগে ৫০ শতাংশ ছিল, এখন তা নেমে এসেছে ৩০-এ। স্কুল ফিডিং জোরদারের চেষ্টা করছে সরকার। ছেলে-মেয়েদের পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। ফার্স্টফুড খাবার থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় পুষ্টি সেবা কার্যক্রমের পরিচালক এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রতি তিন জনে একজন অসংক্রামক রোগে মারা যাচ্ছে। যেখানে সামনে আসছে পুষ্টির বিষয়টি। একজন মানুষকে কোন বয়সে কী ধরনের খাবার খেতে হবে সেটি চিন্তা করতে হবে। আমরা খাদ্যের পুষ্টির চেয়ে তৃপ্তিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের যে পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন হয়, তাতে যথেষ্ট। তবে পুষ্টিতে জোর দিতে হবে।