গ্রামে কাজ না পেয়ে ২৪% পরিবার শহরমুখী

গ্রামে কাজের সুযোগ না থাকায় সাড়ে ২৪ শতাংশ পরিবার শহরমুখী হয়েছে। ২০ শতাংশের বেশি ভালো কিছুর আশায় গ্রাম ছেড়েছে। কৃষির উৎপাদনসংকট তাদের শহরে অভিবাসী বানিয়েছে।
‘বাংলাদেশে নগর দারিদ্র্য’ শীর্ষক এক গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে। ‘নগর দারিদ্র্য: বস্তিবাসী ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ভূমিতে অধিকার ও নাগরিক সেবায় অভিগম্যতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।
সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) এবং হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার (এইচআরডিসি)।
এএলআরডির সহায়তায় এইচআরডিসির করা গবেষণার নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক আবুল বারকাত। গবেষণাটি দেশের ৮টি সিটি করপোরেশন ও ৮টি পৌরসভার ৪৮০টি পরিবারের ওপর পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে করা হয়। গত বছরের মে ও জুলাই মাসে এ জরিপ হয়।
জরিপের ফল অনুযায়ী, নগরের বস্তিবাসীর ৯৪ শতাংশ ভূমিহীন। এই পরিবারগুলোর গড় বার্ষিক আয় বছরে দেড় লাখ টাকার বেশি। ৬৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা গ্রামে থাকা স্বজনদের জন্য টাকা পাঠান। বস্তিবাসীর ৮২ শতাংশ খাদ্য অনিরাপত্তায় থাকেন।
গবেষণার সারসংক্ষেপ তুলে ধরে আবুল বারকাত বলেন, সরকারি হিসাবে নগর দারিদ্র্যের সংখ্যা ১৮ দশমকি ৯ শতাংশ বলা হলেও এ গবেষণায় বলা হয়, এটা ৪০ শতাংশের কম হবে না।
গবেষণায় বলা হয়, বস্তির ঘরগুলোতে খুবই অমানবিকভাবে বাস করেন মানুষ। ছোট একটি ঘরে পরিবারের সব সদস্যকে একসঙ্গে থাকতে হয়। মাত্র ১৬ শতাংশের নিরাপদ স্যানিটেশন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসের জন্য তাঁরা আয়ের তুলনায় যে মূল্য পরিশোধ করেন, তাঁরা শহরের ধনীদের তুলনায় বেশি। তাঁরা এখানে বৈষম্যের শিকার।
বস্তির পরিবারের সদস্যের ৪১ শতাংশ কখনো স্কুলে যায়নি। অসুস্থতার জন্য ৬৪ শতাংশ স্থানীয় ফার্মেসিতে যায়। বস্তিবাসীর ৯৫ শতাংশ মোবাইল ব্যাংকিং করে থাকেন। মাত্র ৫ শতাংশের প্রচলিত ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট আছে। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা প্রোগ্রামের সুবিধা পেয়েছেন ১২ শতাংশ এবং ২৮ শতাংশ বয়স্ক ভাতা পেয়েছেন গত বছর।