
২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দীর্ঘ ১৭ বছর পর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর বিমানবন্দর অবতরণ থেকে শুরু করে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ—সবকিছুই রাজনৈতিক মহলে বিশ্লেষণ ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিশেষভাবে注目 সৃষ্টি করেছে তাঁর উচ্চারণ ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’। সাধারণ ইংরেজি বাক্য হলেও রাজনৈতিক ও দার্শনিক তাৎপর্য বহুগুণ। এটি কেবল কোনো ব্যক্তিগত স্বপ্নের কথা নয়; বরং ইঙ্গিত দিচ্ছে যে স্বপ্নের মালিকানা জনগণের হাতে, আর নেতা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা গেছে, বহুবার একক নেতার স্বপ্ন জনগণের স্বপ্ন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে—১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও। তবে তারেক রহমান এই ধারা ভেঙে বলেছেন—জনগণ স্বপ্ন দেখেছে, নেতা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পরিকল্পক।
এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর ঘোষিত ৩১ দফা-তে প্রতিফলিত। পরিকল্পনা চূড়ান্ত নয়; জনগণের চাহিদা ও মতামত অনুযায়ী তা পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত হতে পারে, অর্থাৎ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াটি অংশগ্রহণমূলক।
রাজনীতির ভাষা বদলানো এই উদাহরণটি শুধুমাত্র দলের সীমাবদ্ধতায় নেই। এটি একটি গণতান্ত্রিক দর্শন, যেখানে ক্ষমতার উৎস ও গন্তব্য—উভয়ই জনগণ। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত মিথ—‘জনগণ জানে না, নেতা জানে’—এখানে প্রত্যাখ্যাত। নতুন রাজনৈতিক ধারণায়, জনগণ স্বপ্ন দেখে, নেতা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, জনগণ অংশগ্রহণ করে।
তাহলে, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ শুধু রাজনৈতিক ঘোষণাই নয়; এটি রাজনীতির ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা, যেখানে স্বপ্ন, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।
তথ্যসূত্র: জনকণ্ঠ



