শাজাহানপুর উপজেলা
প্রধান খবর

নিহত চালকের মোবাইলের সূত্র ধরে বগুড়ায় ২ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: অটোচালক মোফাজ্জল হোসেনকে (৫২)হত্যার পর লুট হওয়া মোবাইল বিক্রি সূত্র ধরে বগুড়ায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সাথে ছিনতাই হওয়া সেই অটোসহ আরও একটি চোরাই রিকশা উদ্ধার হয়েছে। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে অটো চুরি সংক্রান্ত নানা তথ্য।

শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয় জানান সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা মঞ্জুর।


এর আগে গত ৫ অক্টোবর শাজাহানপুর উপজেলার সুলতানগঞ্জ হাইস্কুলের পিছনে ঢাকা-রংপুর বাইপাস মহাসড়কের পাশে মোফাজ্জল হোসেনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই অটোচালক আগের দিন বিকেল থেকে রিকশাসহ নিখোঁজ ছিলেন। পরে স্থানীয়দের খবরে নিহতের স্বজনেরা এসে লাশ সনাক্ত করেন।

এই ঘটনার চারদিন পর অটো ছিনতাই ও হত্যার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজন হলেন, ধুনট উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের জয়শিং পশ্চিমপাড়ার ছোট সজিব (১৯) ও বড় সজিব (২১)।


সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা মঞ্জুর জানান, ৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় কলোনী এলাকার চুন্নুর চাপঘরের সামনে থেকে মোফাজ্জল হোসেনের অটো ভাড়া নেয়া হয় সজিবসহ চারজন। প্রথমে মালতিনগরে যাওয়ার কথা ছিল। পরে শজিমেক হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলে তারা। সেখান থেকে বনানী যায়। পথে সুলতানগঞ্জ স্কুলের গলিতে অটো থামায়। সেখানে সিগারেট খাওয়ার কথা বলে তারা অটো থেকে নামে। পরে শাহ সুলতান কলেজের গেটে তাদের নামিয়ে দেয়ার কথা বলে ছিনতাই চক্রের সদস্যরা। ওই সময় মোফাজ্জল অটো চালানো শুরু করতেই রশি দিয়ে তার গলা পেচিয়ে ধরে যাত্রী চার জন। পরে তার গলা কেটে অটো, মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায় ওই চার জন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, এই ঘটনার পর আমরা তদন্ত শুরু করি। পরে মোফাজ্জলের খোয়া যাওয়া মোবাইল ধুনট উপজেলার সোহেল নামে এক ব্যক্তি ক্রয় করেন। সেই মোবাইলের সূত্র ধরে মূলত আমরা জড়িতদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।
এ ছাড়া ছোট সজিবের ঘরে রক্তমাখা প্যান্ট, একটি রশি পাওয়া গেছে। এই রশির সঙ্গে মোফাজ্জলের গলায় পেচানো রশির মিল রয়েছে।


পরবর্তীতে গ্রেপ্তার দুজনের তথ্য মতে, অটোরিকশার সন্ধান মিলে একই উপজেলার সোনাহাটা এলাকার একটি গ্যারেজে। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, তাইমিম নামে ওই গ্যারেজটির মালিক সিরাজুল ইসলাম। তিনিও এই চক্রের সাথে জড়িত। সেখানে চোরাই অটোরিকশা নিয়ে কেটে বিক্রি করা হয়। অভিযানে আমরা আরও একটি অটোরিকশা পেয়েছি।


তবে সিরাজুল ইসলাম পলাতক আছে বলে জানায় পুলিশ। এ ছাড়া মোফাজ্জলকে হত্যার ঘটনায় আরও দুজন এখনও পলাতক। পুলিশ তাদের খুঁজছে। আর গ্রেপ্তার দুজনকে আজই আদালতে চালান করা হবে।


পুলিশের সূত্র আরও জানায়, মোফাজ্জল হোসেনকে হত্যা ও অটো ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১ টি সুইজ গিয়ার বার্মিজ চাকু, ৪ হাত লম্বা ২ টি রশি, ১ টি থ্রি কোয়ার্টার রক্তমাখা হাফপ্যান্ট, ১৫ টি ব্যাটারি।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button