খেলার পর যে কারণে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করেন জাপানের সমর্থকরা

ম্যাচ শেষে উল্লাসে মেতে ওঠার বদলে গ্যালারির আবর্জনা পরিষ্কার করে আবারও প্রশংসা কুড়িয়েছেন জাপানের ফুটবল সমর্থকরা। ডালাস স্টেডিয়ামে খেলা শেষে তারা প্লাস্টিকের ব্যাগ হাতে নিয়ে বোতল, কাগজ, কাপসহ বিভিন্ন ধরনের ময়লা সংগ্রহ করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল স্টেডিয়ামকে ঠিক সেই অবস্থায় রেখে যাওয়া, যেভাবে তারা এটি পেয়েছিলেন।
জাপানি সমর্থকদের এমন উদ্যোগ দেখে অনুপ্রাণিত হন মার্কিন ফুটবল তারকা জেমিস উইনস্টনও। তিনিও তাদের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।
তবে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে যাওয়া জাপানের সমর্থকদের জন্য নতুন কোনো বিষয় নয়। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে প্রথম অংশগ্রহণের সময় থেকেই তাদের এমন দায়িত্বশীল আচরণ বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। এরপর বিশ্বকাপ, অলিম্পিকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে এটি তাদের পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও জার্মানির বিপক্ষে ঐতিহাসিক ২-১ গোলের জয়ের পর উদযাপনের পাশাপাশি নিজেদের বসার স্থান পরিষ্কার করেছিলেন জাপানি সমর্থকরা। সেই ঘটনাও বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাসের পেছনে রয়েছে জাপানের শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কৃতি। ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক স্কট নর্থ জানান, জাপানের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই শ্রেণিকক্ষ, করিডর ও স্কুলের বিভিন্ন অংশ পরিষ্কার করে। ছোটবেলা থেকেই এমন চর্চা তাদের দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।
অন্যদিকে, টোকিওভিত্তিক জাপানবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উপপরিচালক বারবারা হোলথুস বলেন, জাপানি সমাজে মানুষকে ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয় যেন তারা অন্যের জন্য কোনো অসুবিধার কারণ না হয়। তাই জনসমাগমস্থলে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা তাদের স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।


