
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ফরম্যাটেই জয় রয়েছে বাংলাদেশের। ২০০৫ সালে কার্ডিফে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের ওয়ানডেতে জয় দিয়ে যার সূচনা হয়েছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতেও জয়ের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা। তবে সেসব জয় এসেছিল দেশের মাটিতে। অবশেষে দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। ডারউইনে টেস্ট জিতে ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে জয় পেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
২০০৮ সালে সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে ওয়ানডে খেলেছিল বাংলাদেশ। এর মাঝেও বিভিন্ন আইসিসি ইভেন্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে টাইগাররা। তবে কার্ডিফের পর দেশের বাইরে আর অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ।
ডারউইনের এই ঐতিহাসিক জয় এক দিক দিয়ে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাকেও ছাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশকে। কারণ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের কীর্তি নেই লঙ্কানদের।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সংস্করণে ৭ ম্যাচে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজটি ১-১ সমতায় শেষ হয়েছিল। সেবারও মিরপুর টেস্ট জিতে সিরিজে লিড নিয়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের হাতছানি টাইগারদের সামনে।
দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এর চেয়ে রোমাঞ্চকর ও শিহরণ জাগানো মুহূর্ত খুব বেশি আসেনি। ডারউইনের বাইশ গজে শুধু একটি টেস্ট ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়নি; বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে নতুন এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।
ঐতিহাসিক এই জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও টাইগারদের প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। অনেকেই এই জয়কে ২০১৫ বিশ্বকাপে অ্যাডিলেইডে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার চেয়েও বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন। তাদের যুক্তি, এবার জয় এসেছে টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সংস্করণে, তাও আবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে।
এদিকে, সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে আগামী শনিবার (২২ আগস্ট) ম্যাকের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরিনায় মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া।
চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে টাইগারদের পারফরম্যান্স যে নতুন আত্মবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে, তাতে আগামী বছরের জুনে ওভালে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশকে দেখার স্বপ্ন এখন আর অমূলক নয়।
তথ্যসূত্র: যমুনা টিভি



