
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ধাক্কার পর লা লিগার এল ক্লাসিকোয় রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে কিছুটা চাপে ছিল বার্সেলোনা। স্প্যানিশ লিগে শীর্ষস্থানও হারিয়েছিল হ্যান্সি ফ্লিকের দল। অবশেষে রাফিনিয়া ও লামিনে ইয়ামালের জোড়া গোলে আলাভেসকে ৬-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে আবারও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ফিরেছে কাতালানরা। এ ছাড়া একটি করে গোল করেছেন ফেরমিন লোপেজ ও অ্যান্থনি গর্ডন। আলাভেসের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন মারিয়ানো দিয়াজ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে প্রতিপক্ষের ওপর পুরো ম্যাচেই আধিপত্য দেখিয়েছে বার্সেলোনা। ৭৭ শতাংশ বলের দখল রেখে লক্ষ্যে সাতটি শট নেয় তারা। বিপরীতে লক্ষ্যে মাত্র তিনটি শট রাখতে পেরেছে আলাভেস।
দিনের প্রথম ম্যাচে লেভান্তেকে ২-০ গোলে হারিয়ে সাময়িকভাবে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠেছিল অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। তবে বার্সেলোনার জয়ে সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি তারা। ম্যাচটি ড্র করলেও সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারত বার্সা। তবে নিজেদের অস্বস্তি কাটাতে জয়টা ছিল তাদের জন্য অপরিহার্য। ১১ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। ২৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অ্যাতলেটিকো। এক ম্যাচ কম খেলে রিয়াল মাদ্রিদের সংগ্রহ ২৪ পয়েন্ট।
ম্যাচের মাত্র আট মিনিটে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়ার গোলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। পেদ্রির বাড়ানো বল ছুটে গিয়ে সহজেই জালে পাঠান তিনি। মিনিট তিনেক পর পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে ভালো সুযোগ পেয়েও বল উড়িয়ে মারেন আলাভেসের আবদে রেবাখ। এরপর সফরকারীদের আরও দুটি আক্রমণ নিজেদের বক্সে প্রতিহত করে স্বাগতিকরা।
২৩ মিনিটে ইয়ামালের পাস পেয়ে দুরূহ কোণ থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফেরমিন লোপেজ। চলতি মৌসুমে ক্লাবের হয়ে এটি তার ষষ্ঠ গোল। ৩২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি রাফিনিয়া। ফাঁকা জায়গা থেকে তার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
তবে ৪১ মিনিটে আর ভুল করেননি ব্রাজিলিয়ান তারকা। লোপেজের পাস বক্সের বাইরে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। তাতে বার্সেলোনার ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০। চলতি লা লিগায় সর্বোচ্চ গোলদাতা রাফিনিয়ার এটি ১০ ম্যাচে ১৫তম গোল। বিরতির আগে যোগ করা সময়ে জোয়াও কান্সেলোর পাস থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে গোল করেন ইয়ামাল।
দ্বিতীয়ার্ধেও আলাভেসের ওপর আধিপত্য ধরে রাখে বার্সেলোনা। ৫৬ মিনিটে খুব কাছ থেকে গোলের সুযোগ পেয়েও বল উড়িয়ে মারেন করিম আদেয়েমি। ৬২ মিনিটে বদলি হিসেবে নামার দুই মিনিট পরই গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। তার পাস পেয়ে বক্সে ঢুকে আলাভেসের এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ইয়ামাল। চলতি লা লিগায় ১১ ম্যাচে এটি তার দশম গোল।
৭৪ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা অ্যান্থনি গর্ডন সাত মিনিট পরই স্কোরশিটে নাম লেখান। রদ্রির পাস পেয়ে প্রতিপক্ষের অর্ধে এগিয়ে গিয়ে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান ইংলিশ উইঙ্গার। ৮৪ মিনিটে আলাভেসের হয়ে সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন মারিয়ানো দিয়াজ। তাতে ব্যবধান কমলেও বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।



