আবহাওয়া
প্রধান খবর

সপ্তাহজুড়ে বজ্রবৃষ্টি, উত্তরাঞ্চলে কিছু এলাকায় বন্যার পূর্বাভাস

দেশের সব বিভাগে চলতি সপ্তাহজুড়ে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।

তিনি আরও জানান, ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের কারণে ময়মনসিংহ ও সিলেট মহানগরীর কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে আবহাওয়া নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, শনিবার সন্ধ্যা থেকে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রাক-মৌসুমী বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’ ধেয়ে আসছে। আজ থেকে শুরু হয়ে ৭ মে পর্যন্ত এই শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় সক্রিয় থাকতে পারে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় বজ্রবৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় এবং কোথাও কোথাও অতি ভারি বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, আজ থেকেই দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির লক্ষণ দেখা গেছে। আজ রাত থেকে বৃষ্টিপাত আরও সক্রিয় হতে পারে এবং আগামী ৭ মে পর্যন্ত অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

মশিউর রহমান জানান, উজানের মেঘালয়, আসাম ও চেরাপুঞ্জি অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত হতে পারে। এসব এলাকায় প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা রয়েছে, যা বাংলাদেশের সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিচু এলাকায় সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

তবে এ বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রথমদিকে বৃষ্টিপাত উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও ২৮ বা ২৯ এপ্রিল থেকে তা ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ২৯ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত সময়ে দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় নিয়মিত ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে।

ঝড়ের বিষয়ে তিনি বলেন, এ সময়ে অধিকাংশ এলাকায় দমকা হাওয়া বা ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকতে পারে। কিছু স্থানে এর চেয়েও বেশি বা কম হতে পারে।

টানা বৃষ্টির কারণে হাওর অঞ্চলে চলমান ধান কাটার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সময়মতো ধান কাটতে না পারলে কৃষকের ফসলহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এদিকে আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। ২৮ বা ২৯ এপ্রিল থেকে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক হতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৪৫ থেকে ৫৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির যে গুজব ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন মশিউর রহমান। তিনি বলেন, বাস্তবে এমন কোনো আশঙ্কা নেই, বরং বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির কারণে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনাই বেশি।

তথ্যসূত্র: বাসস

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button