চিকিৎসা সংক্রান্ত
প্রধান খবর

২০০০ কিডনি প্রতিস্থাপনের মাইলফলক স্পর্শ করলেন অধ্যাপক কামরুল ইসলাম

দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন প্রখ্যাত কিডনি শল্যচিকিৎসক অধ্যাপক কামরুল ইসলাম ও তার টিম। রাজধানীর শ্যামলীতে প্রতিষ্ঠিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে গতকাল (মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর) সফলভাবে সম্পন্ন হয় তার ২০০০তম কিডনি প্রতিস্থাপন। দেশে এ পর্যন্ত যেসব কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই সম্পন্ন হয়েছে তার নেতৃত্বে।

২০০৭ সালে প্রথম কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন করার পর থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে এই জীবনরক্ষাকারী অস্ত্রোপচার করে যাচ্ছেন অধ্যাপক কামরুল ইসলাম। ব্যয়বহুল এই শল্যচিকিৎসায় তিনি নিজে কোনো পারিশ্রমিক নেন না। মানবসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে তিনি স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন।

কিডনি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, দেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত এবং কিডনি অকেজো হয়ে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে পাঁচজন রোগী মারা যাচ্ছেন। প্রতিস্থাপনের সুযোগ সীমিত ও ডায়ালাইসিস ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেকেই চিকিৎসাবঞ্চিত। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীর জীবন রক্ষা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

১৯৬৫ সালে জন্ম নেওয়া অধ্যাপক কামরুল ইসলাম শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষে দেশে ও বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৯৩ সালে বিসিএসের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করে ২০০৭ সালে প্রথম কিডনি প্রতিস্থাপন করেন। সরকারি চাকরি ছাড়ার পর ২০১৪ সালে নিজ উদ্যোগে সিকেডি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি জানান, সিকেডিতে প্রতিদিন গড়ে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। সম্পূর্ণ প্যাকেজে অস্ত্রোপচারসহ সব খরচ ধরা হয় ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। মানুষের নিখুঁত চিকিৎসা নিশ্চিত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র: এখন টিভি

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button