
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে পশু কেনা ও কোরবানির প্রস্তুতি শুরু করেছেন অনেকেই। আগামী ২৮ মে দেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। তবে কোরবানির ক্ষেত্রে সামর্থ্যের পরিমাপ, শরিক বা ভাগে কোরবানি এবং অংশীদার নির্বাচন নিয়ে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধান।
অনেকেই একা একটি পশু কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় ভাগে বা শরিকে কোরবানি দিয়ে থাকেন। কখনও পরিবারের সদস্যরা, আবার কখনও কয়েকজন মিলে একটি গরু বা উট কিনে কোরবানি করেন। তবে ইসলামে এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দিয়ে কেবল একজন ব্যক্তি কোরবানি দিতে পারবেন। এসব পশুতে একাধিক ব্যক্তি শরিক হলে কারও কোরবানিই সহিহ হবে না।
অন্যদিকে উট, গরু ও মহিষে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হতে পারবেন। সাতজনের বেশি শরিক হলে কারও কোরবানি শুদ্ধ হবে না। তবে সাতের কম-যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ বা ছয়জন মিলে কোরবানি করা জায়েজ।
সহিহ মুসলিম শরিফে হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে,
‘আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে হজ করেছি। তখন আমরা সাতজন একটি উট এবং একটি গরুতে শরিক হয়ে কোরবানি করেছি।’
ভাগে কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অংশীদার নির্বাচন। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, শরিকদের প্রত্যেকের নিয়ত হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
যদি কোনো ব্যক্তি কেবল লোক দেখানো, সামাজিক মর্যাদা বা শুধু গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্যে শরিক হন, তাহলে তার কোরবানি শুদ্ধ হবে না। এমনকি ওই পশুর অন্য শরিকদের কোরবানিও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
তাই শরিক নির্বাচনের সময় তাদের নিয়ত ও উপার্জনের উৎস হালাল কি না, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আলেমরা।
অনেকের ধারণা, যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয় তারা কোরবানি করতে পারবেন না। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, এই ধারণা সঠিক নয়।
সামর্থ্য না থাকার পরও কেউ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোরবানি করেন, তাহলে তা নফল কোরবানি হিসেবে গণ্য হবে এবং তিনি সওয়াব লাভ করবেন।
শরিয়ত অনুযায়ী, নিজের পক্ষ থেকে কোরবানি করা ওয়াজিব হলেও সন্তানের পক্ষ থেকে পিতার ওপর কোরবানি করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে কোনো পিতা নিজের অর্থে নাবালক সন্তানের পক্ষ থেকে কোরবানি করলে তা নফল হিসেবে গণ্য হবে।
এ ছাড়া মৃত ব্যক্তির মাগফিরাত কামনায় তার পক্ষ থেকেও কোরবানি করা জায়েজ বলে ইসলামি বিধানে উল্লেখ রয়েছে।
