বাংলাদেশ
প্রধান খবর

সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য আমার নয়: রোবাইয়াত ফাতিমা তনি

জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল দাবি

সচেতন নাগরিক সমাজ (সিসিএস)-এর সদস্যসচিব ও নারী উদ্যোক্তা রোবাইয়াত ফাতিমা তনি জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়ে পাঠ করা স্মারকলিপি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, সংগঠনের আহ্বায়ক নীলা ইসরাফিল-এর অনুরোধেই তিনি সংবাদ সম্মেলনে স্মারকলিপিটি পাঠ করেন।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে তনি জানান, নীলা ইসরাফিল ব্যক্তিগত কারণে উপস্থিত থাকতে না পারায় তার সরাসরি অনুরোধে ও স্বাক্ষরিত লিখিত স্মারকলিপি অনুযায়ী তিনি বক্তব্যটি পাঠ করেন। স্মারকলিপিটি সম্পূর্ণভাবে আহ্বায়ক ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের উদ্যোগে প্রস্তুত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, ব্যক্তিগতভাবে কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তিনি কোনো চিঠি দেননি বা অভিযোগ দায়ের করেননি; এটি ছিল সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রদত্ত লিখিত বক্তব্য পাঠের একটি আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব।

হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে প্রাণনাশের হুমকি ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তনি। তার দাবি, তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, সংগঠিতভাবে অনলাইন বুলিং, ট্রলিং ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি সাইবার আইনসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের দাবি

গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্যসচিব হিসেবে তনি যে স্মারকলিপি পাঠ করেন, তাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানানো হয়।

তনি বলেন, দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান ও শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময়ে নারীদের রাষ্ট্রীয় উচ্চপদে না থাকার অবস্থান নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, এ ধরনের অবস্থান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ ও ২৮-এর পরিপন্থী এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি বলেন, নারীর সাংবিধানিক অধিকার কোনো রাজনৈতিক আপসের বিষয় হতে পারে না। জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, অবমাননাকর বক্তব্যের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার দাবি জানান তিনি।

তনি আরও বলেন, মতপার্থক্য থাকতে পারে; তবে প্রাণনাশের হুমকি, মানহানি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব কার্যক্রম বন্ধ না হলে সর্বোচ্চ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button