বগুড়ায় কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচির শুভ সূচনা

সারা দেশে শুরু হয়েছে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি তারই ধারাবাহিকতায় আজ ৭ ফেব্রুয়ারি রবিবার সকাল ১১ টায় বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে প্রথম করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে এ কার্যক্রম শুভ উদ্বোধন করেন বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ জিয়াউল হক। এরপর টিকা গ্রহণ করেন জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম বার।
বগুড়ায় ১২টি উপজেলায় ১৭টি কেন্দ্রে ৪২টি বুথে সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে এই কর্মসূচি।
গতকাল শনিবার বা আজ যাঁদের মোবাইল ফোন নম্বরে টিকা নেওয়ার এসএমএস গেছে বা যাবে, তাঁরাই শুধু আজ টিকা নিতে পারছেন। মূলত স্বাস্থ্যকর্মীরাই বেশি টিকা নিচ্ছেন। সেই সঙ্গে কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি, তালিকাভুক্ত মনোনীত সম্মুখ সারির ব্যক্তি ও ৫৫ বছরের বেশি বয়সের কিছুসংখ্যক ব্যক্তি টিকা পাচ্ছেন। প্রতি বুথে থাকছেন দুজন টিকাদানকর্মী ও দুজন স্বেচ্ছাসেবক। টিকাদানকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন নার্স, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ও উপসহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বা সেকমো। আর স্বেচ্ছসেবকের দায়িত্বে রয়েছেন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ আরো কিছু সংগঠনের কর্মীরা। টিকাদানকেন্দ্রের নিরাপত্তায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
বগুড়ায় ১২টি উপজেলায় প্রথম দফায় করোনার টিকা বরাদ্দের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। জেলায় সবচেয়ে বেশি টিকা পাবে সদর উপজেলার বাসিন্দারা। সবচেয়ে কম পাচ্ছে দুপচাঁচিয়া উপজেলা। জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, গত ২৯ জানুয়ারি জেলায় করোনার ১০ হাজার ৮০০ ভায়াল এসে পৌঁছেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বগুড়া ১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের সাংসদ সাহাদারা মান্নান, বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ জিয়াউল হক, জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম বার, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি টি জামান নিকেতা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহন, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও বগুড়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্টিজের সভাপতি মাসুদুর রহমান মিলন, বগুড়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমান, চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান শফিক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ডালিয়া নাছরিন রিক্তা, ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আরএমও শফিকুল ইসলাম কাজল প্রমুখ।
অ্যাডভার্স ইভেন্টস ফলােয়িং ইমিইনাইজেশন (এই এফআই) জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য ডাঃ সামির হােসেন মিশু জানান, মােহাম্মদ আলী হাসপাতালে প্রথমদিনের জন্য ৫০ ডােজ টিকা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২শ’ ডােজ এবং পুলিশ হাসপাতালে ৩০ ডােজ টিকা প্রদান করা হয়েছে।
জেলায় প্রথম টিকা গ্রহিতা হিসেবে জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক বলেন, ‘যেহেতু বর্তমান সরকারের এটি একটি বড় উদ্যোগ, তাই মানুষকে আস্থার জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রথম টিকাটি আমি নেওয়ার জন্য ইচ্ছে প্রকাশ করেছি। এই ভ্যাক্সিন নিয়ে অনেকের মাঝেই আশঙ্কা কাজ করছে। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা যেন কেটে যায় সেজন্য জেলায় প্রথম টিকাটি আমি নেওয়ার জন্য আশা প্রকাশ করেছি। অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনও করেছি।



