রোহিঙ্গা সংকটে উখিয়া-টেকনাফে বাড়ছে অনিরাপত্তা, ৭ দফা দাবিতে আন্দোলন স্থানীয়দের
বনভূমি হারিয়ে জীবিকা সংকট; অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের দাবি স্থানীয়দের

রোহিঙ্গা আগমনের প্রায় নয় বছর পর উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় স্থানীয়দের জীবন-জীবিকায় নেমে এসেছে বড় ধরনের সংকট। একসময় প্রায় ১০ হাজার একর বনভূমিতে চাষাবাদ ও নাফ নদী-নির্ভর মাছ ও কাঁকড়া শিকার ছিল তাদের আয়ের প্রধান উৎস। কিন্তু ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ঢলের পর সেই সুযোগ অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বনভূমি উজাড়, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধি এবং সীমান্তে আরাকান আর্মি-র উপস্থিতির কারণে নাফ নদীতে নামাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে আয়হীন হয়ে পড়ছেন অনেক পরিবার।
এ পরিস্থিতিতে ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ ৭ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন স্থানীয়রা।
উখিয়ার পালংখালীর বাসিন্দা মফিজুর রহমান বলেন, ক্যাম্পের বাইরে চলাচলকারী কিছু রোহিঙ্গার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়, যার প্রভাব বাংলাদেশ অংশেও পড়ে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রোহিঙ্গা ডাকাতি ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “পশ্চিমে পাহাড়ে গেলে অপহরণের ভয়, পূর্বে গেলে আরাকান আর্মির সহিংসতার আশঙ্কা-আমরা চারদিক থেকেই অনিরাপত্তায় আছি।” তিনি জানান, অপহরণ ও নির্যাতনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে।
আরেক বাসিন্দা ফরিদ আহমদ অভিযোগ করেন, ক্যাম্পকেন্দ্রিক অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রমের কারণে অনলাইন জুয়া ও মাদকসহ নানা অপরাধ বেড়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্থানীয় তরুণদের ওপর।
সচেতন মহল দ্রুত কার্যকর উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়েছে। অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি রবিউল হোসেন বলেন, বনভূমি কেটে স্থায়ী আবাসন নির্মাণ রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ইঙ্গিত দেয়, যা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, “রোহিঙ্গাদের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে সরকারকে সর্বোচ্চ তৎপরতা বাড়াতে হবে। তা না হলে স্থানীয়রা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।”
এদিকে কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী স্থানীয়দের দাবির প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, নিরাপদ পানি, চাষাবাদ ও মাছ ধরার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং সবকিছু নিয়মের মধ্যে আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৭ সালকে ‘গুড বাই রোহিঙ্গা’ হিসেবে দেখতে চান এবং ওই সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরাতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফের ৩৩টি ক্যাম্পে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। বিপরীতে স্থানীয় জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ, যা এ অঞ্চলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছে।
তথ্যসূত্র: সময় নিউজ



