
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিপরীত পাশের দেয়ালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালো রং লাগানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন আল নূর মোহাম্মদ আয়াস (২৭), মো. সাকিবুস হাসান (১৯), মো. সুজন মিয়া (১৮) ও মারজিয়া খন্দকার রিমি (২৬)। আদালত আয়াস ও সাকিবুস হাসানের তিন দিন করে এবং সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকার রিমির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে পুলিশ চারজনকে আদালতে হাজির করে। এ সময় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আব্দুল গাফফার হিমেল তাঁদের প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হকার উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির বিপরীত পাশের সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই এলাকার গণপূর্ত অধিদপ্তরের সীমানাপ্রাচীরে বিভিন্ন শিল্পকর্ম, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে আঁকা গ্রাফিতি ছিল।

গত ৯ অক্টোবর ‘সংলাপ ফোরাম’-এর সভাপতি আল নূর মোহাম্মদ আয়াস গ্রাফিতিগুলো মুছে ফেলার ঘোষণা দেন। এ ঘটনায় প্রথমে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিল্পকলা একাডেমির ফটকের বিপরীত পাশের দেয়ালের সামনে আয়াসসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। এ সময় মারজিয়া খন্দকার রিমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালো রং লাগান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আয়াস পাকিস্তানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর কবর ও নামফলক নিয়ে বক্তব্য দেন। অন্যদিকে, মারজিয়া খন্দকার রিমি ভারতীয় আগ্রাসন এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমিদারির সময় মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে গ্রাফিতিতে কালো রং লাগান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মামলায় আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর



