একটা পোয়া বড়ই পুঞ্চাশ টাকা! কী মানুষ খ্যাবে?
বগুড়ার বাজারে কুলের বাহার, দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিন্ন মত

প্রতিবেদক: সিজান ইসলাম | বগুড়া
শীতকাল এলেই বাজারে আসে নতুন নতুন ফলের সমাহার। শাকসবজি ও পিঠা-পুলির পাশাপাশি এই মৌসুমে ক্রেতাদের নজর কাড়ে কুল বা বড়ই। বগুড়ার বিভিন্ন বাজারে এখন বাহারি রকমের কুলে ভরে গেছে ফলের দোকানগুলো।
শীত নামতেই বাজারে দেখা মিলছে টক বড়ই, আপেল কুল, দেশি বড়ই, বাহারি সুন্দরি সহ নানা জাতের কুলের। দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি স্বাদেও রয়েছে ভিন্নতা। তবে রঙিন এই উপস্থিতির মাঝেই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে দাম।
বর্তমানে বগুড়ার বাজারে কুল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৬০ থেকে ২০০ টাকা দরে। কোথাও কোথাও ৫০ টাকায় মাত্র ২৫০ গ্রাম কুল বিক্রি হচ্ছে। হিসাব করলে একটি বড় বরইয়ের দাম পড়ছে প্রায় ৫০ টাকা, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বেশ চাপের।
দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। এক ক্রেতা বলেন,
“৫০ টাকায় ২৫০ গ্রাম কুল কিনলে একটি পরিবারে ৩–৪ জন থাকলে ভাগে দুইটার বেশি করে কুল খাওয়া যায় না।”

আরেক ক্রেতা জানান,
“বাজারের বড়ইয়ের দাম আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য অনেক বেশি।”
নিম্ন আয়ের এক ক্রেতার ভাষ্য,
“২০০ টাকা কেজি দরে কুল কেনা আমাদের জন্য কষ্টের।”
চড়া দামের কারণে অনেকেই ইচ্ছা থাকলেও কুল কিনতে পারছেন না বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। এক বিক্রেতা জানান,
“তীব্র শীতের কারণে বাজারে চাহিদা কমে গেছে, পাশাপাশি সরবরাহও কম। এ কারণেই দাম কিছুটা বেশি।”
আরেক বিক্রেতার ভাষ্য,
“শীতের কারণে ব্যবসা খুব ভালো যাচ্ছে না। শিশুদের কাশি হওয়ার আশঙ্কায় অনেক বাবা-মা কুল কিনছেন না।”
বিক্রেতাদের আশা, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং বাজারে সরবরাহ বাড়লে কুলের দাম কিছুটা কমবে।
শীতের বাজারে কুলের রঙিন উপস্থিতি একদিকে চোখে আনন্দ দিলেও, চড়া দামের কারণে সাধারণ মানুষের সাধ্যের সীমা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন-একটা পোয়া বরই পঞ্চাশ টাকা হলে, শেষ পর্যন্ত মানুষ খাবে কী?



