
চাকরি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়লেও হার মানেননি মো. মেহেদি হাসান। অল্প পুঁজি আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করে তিনি বেছে নিয়েছেন স্বনির্ভরতার পথ। বগুড়া শহরের সাতমাথা মোড়ে ডিম মাখা বিক্রি করেই এখন চলছে তার সংসার।
এক সময় কাঁচা মালের আড়তে চাকরি করতেন মেহেদি হাসান। তবে কোনো এক কারণে চাকরিটি চলে যাওয়ায় প্রায় এক থেকে দেড় মাস বেকার অবস্থায় থাকতে হয় তাকে। এই সময়টায় জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগলেও ছোট ভাইয়ের সহযোগিতায় নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করেন ডিম মাখার ব্যবসা। বগুড়া সাতমাথা স্ট্রিট ফুড জোনে এখন নিয়মিত দেখা যায় তার ভ্রাম্যমাণ দোকান। প্রতিদিন তিনি বিক্রি করেন প্রায় ৪ কেজি ছোলা বুট, ৪০ থেকে ৫০টি ডিম এবং ৩ কেজি আলু।

বিক্রেতা মো. মেহেদি হাসান বলেন,
“আগে কাঁচা মালের আড়তে চাকরি করতাম। হঠাৎ চাকরি চলে যাওয়ায় বিপদে পড়ে যাই। পরে ছোট ভাইয়ের সাহায্যে এই ডিম মাখার ব্যবসা শুরু করি। দিনে ৪ কেজি ছোলাবুট, ৪০-৫০টা ডিম আর ৩ কেজি আলু বিক্রি করি। সারাদিনে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হয়। এই দিয়েই এখন সংসার চলছে।”
তার দোকানে পাওয়া যাচ্ছে ছোলা বুট মাখা, চিড়া ও চানাচুর দিয়ে ডিম মাখা। দামও রাখা হয়েছে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই।
- হাফ ডিম মাখা: ২০ টাকা
- ফুল ডিম মাখা: ৩০ টাকা
- ছোলা বুট মাখা: ১০ টাকা থেকে শুরু
ক্রেতারা বলেন,
“২০ টাকায় হাফ ডিম মাখা ভালোই লাগছে। এখন এমন মাখা অনেক জায়গায় ১০ টাকায় বিক্রি করে, কিন্তু স্বাদ ভালো না। এখানে খেতেও মজা। ৩০ টাকায় ফুল ডিম মাখার দামও যুক্তিসংগত।”
এই ছোট উদ্যোগ থেকেই প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করছেন মেহেদি হাসান। দোকানের বয়স কম হওয়ায় তিনি হিসেব করে অল্প অল্প করেই মাল আনছেন। বর্তমানে এই ডিম মাখার ব্যবসাই মেহেদি হাসান ও তার পরিবারের একমাত্র জীবিকা।
সুস্বাদু ও সাশ্রয়ী এই ডিম মাখা খেতে চাইলে যেতে হবে বগুড়া সাতমাথা স্ট্রিট ফুড জোনে।
সিজান ইসলাম
বগুড়া লাইভ



