
নিজস্ব প্রতিবেদক: উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বেশি শুকনা মরিচ উৎপাদনকারী জেলা বগুড়ায় এবার মরিচের বাজারে চলছে রমরমা বেচাকেনা। গত বছরের তুলনায় আবাদ কিছুটা কম হলেও অনুকূল আবহাওয়া ও উন্নতমানের বীজ ব্যবহারের কারণে উৎপাদন বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় লাভবান হয়েছেন কৃষকেরা। কৃষি বিভাগের হিসাবে, এ মৌসুমে বগুড়ার শুকনা মরিচের বাজারে লেনদেন হবে অন্তত ৬০০ কোটি টাকা।
যমুনা নদী অববাহিকার সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলার চরাঞ্চলে উৎপাদিত মরিচের গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারদের পাশাপাশি মসলা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও এখান থেকে মরিচ সংগ্রহ করছে। ঝাঁজ, রং ও স্বাদের ভিন্নতার কারণে বগুড়ার মরিচের আলাদা কদর রয়েছে বাজারে।
সারিয়াকান্দি উপজেলার হাট ফুলবাড়ী বাজারে এখন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে চরের শুকনা মরিচ। বিশেষ করে দেশি জাতের মরিচের ঝাঁজ ও মান ভালো হওয়ায় পাইকারদের আগ্রহও বেশি। এ মৌসুমে দেশি মরিচের প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় ৪১ হাজার ৬২৫ বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২১ হাজার ৭৫০ মণ। গত বছর ৪৩ হাজার ৩৫ বিঘা জমি থেকে উৎপাদন হয়েছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭০০ মণ। অর্থাৎ আবাদ কমলেও উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৯০ হাজার মণ।
জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মরিচ চাষ হয়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলায়। সেখানে ২০ হাজার ২৫ বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে দেশি জাতের মরিচ উৎপাদন হয়েছে ৫৭ হাজার ৪০০ মণ এবং হাইব্রিড জাতের মরিচ উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার মণ।
সারিয়াকান্দির চরবাটিয়া এলাকার কৃষক মো. মোখলেছুর রহমান জানান, তিনি ৪৬ বছর ধরে মরিচ চাষ করছেন। এবার এক বিঘা জমিতে হাইব্রিড মরিচ চাষ করে কাঁচা অবস্থায় প্রায় ২০ মণ ফলন পেয়েছেন। এছাড়া ৩৬ শতাংশ জমিতে দেশি মরিচ চাষ করে প্রায় ৯০ হাজার টাকার শুকনা মরিচ বিক্রি করেছেন।
লক্ষ্মীখোলা চরের কৃষক মো. আব্দুর রহিম বলেন, আড়াই বিঘা জমিতে হাইব্রিড মরিচ চাষ করে প্রতি বিঘায় গড়ে ১০ মণ শুকনা মরিচ পেয়েছেন। তিনি প্রতি মণ মরিচ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “এবার হাইব্রিড মরিচের উৎপাদন বেশি হয়েছে। কৃষকেরা ভালো দাম পাচ্ছেন। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলনও ভালো হয়েছে।”
হাট ফুলবাড়ী এলাকার পাইকার মো. আহনাফ হাসান জানান, “দেশি মরিচের প্রতি মণ ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা এবং হাইব্রিড মরিচ ৯ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।”
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ বলেন, “আবাদ কিছুটা কম হলেও এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। গড়ে প্রতি মণ মরিচ ১২ হাজার টাকা ধরে হিসাব করলে এ মৌসুমে শুকনা মরিচের বাজারে লেনদেন ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।”

