বগুড়া জেলা
প্রধান খবর

বগুড়ায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগে গর্ভবতী নারীর মৃত্যু

বেসরকারি হাসপাতালে ভাঙচুর, পুলিশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ

বগুড়ায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে এক গর্ভবতী নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় অবস্থিত প্রভাতী হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এ এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নারী জবা বালা রানী (৩০) বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার শিবাকলমা ইউনিয়নের শিপন চন্দ্রের স্ত্রী। তিনি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

নিহতের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার জবা বালা রানীর তলপেটে তীব্র ব্যথা শুরু হলে তাকে প্রভাতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে এবং অ্যাবরশন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অ্যাবরশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইনজেকশন দেওয়ার পর হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হয়ে উঠলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়ার পরামর্শ দেয়।

স্বজনরা দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে সেখানে পৌঁছালে দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই জবার মৃত্যু হয়েছে।

এরপর মরদেহ নিয়ে স্বজনরা প্রভাতী হাসপাতালে ফিরে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতি এবং হাসপাতালের ভেতরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

নিহতের স্বামী শিপন চন্দ্র, খালা শান্তি রানী ও মামা শ্রী মাখন চন্দ্র সরকার অভিযোগ করে বলেন,

“চরম অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই জবার মৃত্যু হয়েছে। আমরা কথা বলতে গেলে হাসপাতালের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়।”

এ বিষয়ে প্রভাতী হাসপাতালের ম্যানেজার রুবেল বলেন,

“ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি দাবি করেন,

“রোগীর স্বজনরা হঠাৎ হাসপাতালে ঢুকে ভাঙচুর চালান এবং কর্মীদের মারধর করেন।”

বগুড়া সদর থানা-র পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান,

“খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।”

এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button