
বগুড়া-৬ সদর আসনের উপনির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না এবং একটি দলের পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল।
বুধবার দুপুরে শহর জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশায় তারা উপনির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি দলের প্রভাবে নির্বাচনী পরিবেশ ভীতিকর হয়ে উঠছে।
তিনি অভিযোগ করেন, রিটার্নিং অফিসারকে লিখিতভাবে একাধিকবার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেওয়া হলেও তিনি তা আমলে নেননি। বরং সরকারি দলের প্রভাবে প্রিজাইডিং অফিসারসহ বিভিন্ন নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জামায়াত প্রার্থীর দাবি, ১৫০টি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের তালিকা চাওয়া হলেও তা দেওয়া হয়নি। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে ১৬ জন প্রিজাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে সরকারি দলের পদধারী বা সমর্থক হওয়ার প্রমাণসহ অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ প্রকাশ্যে সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। বিশেষ করে মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল-এর চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মিছিলে অংশ নিতে দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গ্রামে গ্রামে জামায়াতের নেতা-কর্মী ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে না যেতে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় নির্বাচন কমিশনের কাছে সাত দফা দাবি তুলে ধরে আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, পক্ষপাতদুষ্ট প্রিজাইডিং অফিসারদের অপসারণ, ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে জটলা ও প্রভাব বিস্তার বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।
ভোট বর্জনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোট বর্জনের কোনো ইচ্ছা নেই। আমরা চাই জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার সুযোগ পাক। নির্বাচন কমিশন তার নিরপেক্ষতা প্রমাণ করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শাহাবুদ্দিন, আ.স.ম আব্দুল মালেক, আব্দুল হাকিম সরকার, রফিকুল আলম, আল-আমিন, ইকবাল হোসেন, আব্দুস ছালাম তুহিন ও শাহীন মিয়া।



