
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার গারামারা গ্রামের মোজাহার আলী শেখ হত্যা মামলায় দুই সহোদর আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলার অপর পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন ধারায় মেয়াদি কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বগুড়ার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-৩-এর বিচারক মো. হাবিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সোনাতলা উপজেলার গারামারা গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিন শেখের ছেলে সেকেন্দার আলী (৬৫) ও আব্দুল লতিফ (৬০)।
এ ছাড়া একই মামলায় সেকেন্দার আলী শেখের দুই ছেলে উজ্জল (৪৪) ও রঞ্জু মিয়া (৩৯), মোন্তাজ আলী শেখের দুই ছেলে আব্দুল মোমিন (৩৫) ও মিনাল (৩৩) এবং মোখছেদ আলীর ছেলে শাহ আলম ফকিরকে (৫২) বেআইনি সমাবেশের সদস্য হওয়ার দায়ে প্রত্যেককে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড, ২০০ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মারপিটের দায়ে তাদের প্রত্যেককে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, এক হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে অতিরিক্ত ১৫ দিনের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ৩ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আসামিরা মোজাহার আলী শেখের বাড়ির আঙিনায় বেআইনিভাবে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় তারা মোজাহার আলী শেখ ও তার ছেলে শফিকুল এবং সুজাউল বাবুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। পরে আহতদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়ার পথে মোজাহার আলী শেখ মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জোবেদা বেওয়া বাদী হয়ে সোনাতলা থানা-এ হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাহিদ হোসেন আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট এফ এম আসাদুজ্জামান মাখন জানান, মোজাহার আলী শেখ হত্যা মামলায় আহত তার দুই ছেলে শফিকুল ও সুজাউল বাবু পরবর্তীতে অসুস্থ অবস্থায় দুই বছর পর মারা যান। প্রায় ১৫ বছর পর মামলার রায় হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এ এইচ এম গোলাম রব্বানী খান রোমান জানান, এই রায়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অনেক বিষয় যথাযথভাবে প্রমাণিত হয়নি। তবে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, আসামিদের মধ্যে মিনাল (৩৩) এখনও পলাতক রয়েছেন।
