কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষণে কেজিপ্রতি ৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণের দাবি
বগুড়ায় সংবাদ সম্মেলন

বগুড়া প্রতিনিধি: সারাদেশে কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কেজিপ্রতি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে আলুর ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল বডি। একই সঙ্গে আগামী সাত দিনের মধ্যে এ দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ না নেওয়া হলে উপজেলা পর্যায়ে কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (১৪ জুন) দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মো. ছামিউল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৪২টি জেলায় আলু উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলের বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও রাজশাহী এবং দক্ষিণাঞ্চলের মুন্সিগঞ্জ ও চাঁদপুর আলু উৎপাদনের প্রধান অঞ্চল। এসব এলাকার কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও আলু রপ্তানি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত কয়েক বছরে কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা ধারাবাহিকভাবে সংরক্ষণ ভাড়া বৃদ্ধি করেছেন। ২০২৩ সালে ৬০ থেকে ৬৫ কেজি আলুর প্রতি বস্তার ভাড়া ছিল ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। আর ২০২৫ সালে কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন কেজিপ্রতি ৮ টাকা বা ৬৫ কেজির বস্তাপ্রতি ৫২০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে, যা কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
ছামিউল ইসলাম বলেন, কৃষি বিপণন আইন-২০১৮ অনুযায়ী কৃষি বিপণন অধিদপ্তর চলতি বছরের ২ মার্চ আলু সংরক্ষণের ভাড়া কেজিপ্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করলেও বাস্তবে অনেক কোল্ড স্টোরেজ মালিক ৬০ থেকে ৬৫ কেজির প্রতি বস্তায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন।
তিনি দাবি করেন, বর্তমানে আলু উৎপাদনে কেজিপ্রতি প্রায় ১৩ টাকা, পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয়ে ২ টাকা ৫০ পয়সা এবং বস্তার খরচে আরও ২ টাকা ৫০ পয়সা লাগে। এর সঙ্গে কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া ৬ টাকা ৭৫ পয়সা যোগ হলে সংরক্ষিত আলুর মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২৪ টাকা ৭৫ পয়সা। কিন্তু কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এখনও সেই অনুযায়ী ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।
অতিরিক্ত সংরক্ষণ ভাড়ার কারণে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং সাধারণ ভোক্তাদেরও বেশি দামে আলু কিনতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত প্রকৃত ব্যয় নিরূপণ করে কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া কেজিপ্রতি ৫ টাকা নির্ধারণ এবং এ বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী সাত দিনের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়া হলে উপজেলা পর্যায়ে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া আগামী ২১ জুন দেশের সব উপজেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে।