
নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদরের চড়কতলা হিন্দুপল্লীতে উৎসবমুখর পরিবেশে দেবী ষষ্ঠীর পূজা এবং বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী লোকজ উৎসব ‘জামাই ষষ্ঠী’ পালিত হয়েছে। সন্তানদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনার পাশাপাশি মেয়ে-জামাইয়ের সুখ-সমৃদ্ধি কামনায় শুক্রবার (২০ জুন) দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ উৎসব উদযাপন করা হয়।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী ষষ্ঠী শিশুদের কল্যাণ ও সুরক্ষার অধিষ্ঠাত্রী দেবী। প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে তাঁর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এ বছর জ্যৈষ্ঠ মাসে মল মাস থাকায় হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে আষাঢ় মাসের ৫ তারিখে (২০ জুন) ষষ্ঠী তিথি পড়ায় এদিনই পূজা ও জামাই ষষ্ঠী উদযাপিত হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, চড়কতলা হিন্দুপল্লীর প্রায় আড়াই শতাধিক সনাতনী পরিবার দীর্ঘদিন ধরে পূর্বপুরুষদের রীতি অনুসরণ করে এই উৎসব পালন করে আসছে। সকাল থেকেই পূজা-অর্চনা, ব্রতকথা পাঠ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। পূজা শেষে ভক্তরা দেবী ষষ্ঠীর কাছে সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের মঙ্গল কামনা করেন।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘জামাই ষষ্ঠী’ পালন। এদিন শাশুড়িরা জামাইদের কপালে দইয়ের ফোঁটা দিয়ে আশীর্বাদ করেন এবং হাতে হলুদ মাখানো পবিত্র সুতো বেঁধে দেন। একইভাবে মায়েরা সন্তানদের হাতেও হলুদ মাখানো সুতো বেঁধে তাদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
পরে জামাইদের আপ্যায়নের জন্য আয়োজন করা হয় নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের। পারিবারিক মিলনমেলায় প্রতিটি ঘর আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে। আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতিতে উৎসবটি পরিণত হয় আনন্দ ও সম্প্রীতির এক মিলনমেলায়।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, ষষ্ঠী পূজা ও জামাই ষষ্ঠী শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি বাঙালি হিন্দু সমাজের ঐতিহ্য, পারিবারিক বন্ধন এবং সামাজিক সম্প্রীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক লোকজ সংস্কৃতি হারিয়ে গেলেও এই উৎসব এখনও একই উৎসাহ-উদ্দীপনায় পালিত হয়ে আসছে।
সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, পারিবারিক বন্ধন ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে বগুড়ার আদমদীঘিতে পালিত ষষ্ঠী পূজা ও জামাই ষষ্ঠী উৎসব সনাতনী সম্প্রদায়ের এক প্রাণের আয়োজন হয়ে উঠেছে।