বগুড়া জেলা
প্রধান খবর

বগুড়ায় এনসিপি নেতা গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের জামিন আবেদন নাকচ

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর ও মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার জামিন আবেদন নাকচ করা হয়।

আদালতে তানভীরের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন বগুড়া জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ও আইনজীবী ইজাজ আল ওয়াসী জ্বীম।

জামিনের শুনানিতে আইনজীবী ইজাজ আল ওয়াসী বলেন, যে ফেসবুক পোস্টের ভিত্তিতে মামলাটি করা হয়েছে, সেই পোস্ট দেওয়া আইডি এবং ব্যবহৃত মুঠোফোন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে জব্দ করেছে। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে তানভীরকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া এবং জামিন না দেওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

এর আগে বগুড়া সদর থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং ঢাকা মিরপুর থানা পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে ভোর ৫টার দিকে গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর তাকে বগুড়ায় এনে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এইচ. এস. মাফতুন আহমেদ খান রুবেল। বগুড়া সদর থানায় করা এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গাজী সালাউদ্দিন তানভীর তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ, আপত্তিকর ও উসকানিমূলক পোস্ট প্রকাশ করেন।

এজাহারে বলা হয়, গত ২৯ জুলাই বিকেলে বগুড়া জেলা বিএনপির কার্যালয়ে অবস্থানকালে বাদী তানভীরের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ওই পোস্ট দেখতে পান। পরে বিষয়টি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বাদীর অভিযোগ, ওই পোস্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মানহানি করা হয়েছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

জানা গেছে, সিলেটে এনসিপির একটি পথসভায় হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন তানভীর। পরে তিনি ওই পোস্টটি মুছে দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।

এ ঘটনার পর এনসিপি তাকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় এবং তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। ২০২৬ সালের ৩১ জুলাইয়ের এক নোটিশে দল তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া মন্তব্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের কথা জানায়।

এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিলেও তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পরে চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল সেই অব্যাহতির আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে সাংগঠনিক দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button