
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বগুড়ার আদমদীঘিতে সরকারি রাসায়নিক সার অনিয়মের অভিযোগে জরিমানা ও সিলগালা করা বিএডিসির ডিলার মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজের গুদাম অবশেষে খুলে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে গুদামটি খুলে দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়মিতভাবে সারের বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, একাধিকবার অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর আগে একই ধরনের অভিযোগে মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজের সার ডিলার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
জানা যায়, গত ১৮ জুলাই সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেশরতা গ্রামের এক কৃষক শতাধিক বস্তা রাসায়নিক সারবোঝাই দুটি ভুটভুটি দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান, সারগুলো কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের কড়ইহাট এলাকার বিএডিসির ডিলার মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজ থেকে উপজেলা সদরের মেসার্স খন্দকার ট্রেডার্সে নেওয়া হচ্ছিল।
বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলামকে জানানো হলেও প্রাথমিকভাবে তিনি সারগুলো অন্য উপজেলার বলে দাবি করেন। পরে ডিলার এম.এ. কাশেম সারগুলোর মালিকানা স্বীকার করেন। অপরদিকে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন দাবি করেন, সারগুলো নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর বাজার থেকে আনা হয়েছিল। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন এবং ডিলার-টু-ডিলার সার স্থানান্তরের বিধি অনুসরণ না করেই সার পরিবহন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
এরপর ১৯ জুলাই সকালে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এ সময় মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির গুদাম সিলগালা করে দেওয়া হয়।
গুদাম সিলগালার দুই দিন পর ২১ জুলাই ডিলার প্রতিষ্ঠানের মেয়ে সাদিয়া আফরিন কেয়া বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে গুদাম খুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে সে সময় গুদাম খোলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
ঘটনার প্রায় ২৫ দিন পর গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুদামটি খুলে দেয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে গুদাম খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কাসেম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এম.এ. কাশেমের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও এলাকায় আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, তিনি আওয়ামী লীগের সক্রিয় ও প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে গুদাম খুলে নেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে এমন কোনো প্রভাবের বিষয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এম.এ. কাশেম বলেন, “প্রক্রিয়া অনুযায়ী সার গুদাম খুলে নেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্রবার থেকে কৃষকদের মধ্যে সার বিক্রি শুরু হবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, “মুচলেকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি খুলে দেওয়া হয়েছে। বারবার অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে প্রতিবেদন পাঠাই। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে আমাদের তেমন কিছু করার থাকে না।”



