আদমদিঘী উপজেলাবগুড়া জেলা
প্রধান খবর

বগুড়ায় তালাবদ্ধ শয়নঘরে ঢুকতে পুলিশের সহায়তা চেয়ে উল্টো অভিযোগের শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ার আদমদীঘিতে প্রবাস থেকে ফিরে নিজের ব্যবহৃত তালাবদ্ধ শয়নকক্ষে প্রবেশের জন্য পুলিশের সহায়তা চেয়ে লিখিত অভিযোগ করার পর উল্টো প্রতিপক্ষের করা অভিযোগের মুখে পড়েছেন রবিউল ইসলাম ফকির নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেশরতা গ্রামে। একই সঙ্গে স্থানীয় একটি অরাজনৈতিক ক্লাবে চেয়ার ও ব্যানারে আগুন দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এসব ঘটনার দায় রবিউল ও তার সহযোগীদের ওপর চাপানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পক্ষের লোকজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে পাড়ি জমান রবিউল ফকির। সম্প্রতি দেশে ফিরে তিনি দেখতে পান, তার ব্যবহৃত শয়নকক্ষে তালা ঝুলছে। রবিউলের অভিযোগ, একই গ্রামের হামিদুল ইসলাম ফকির ওই ঘরে তালা দিয়েছেন।

ঘরের তালা খোলার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েকজনের কাছে সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে রবিউল ন্যায়বিচারের আশায় আদমদীঘি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে থানায় উভয় পক্ষের লোকজনকে নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে বিরোধপূর্ণ ঘরের তালা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষ ওই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি হয়নি।

পরে ওইদিন সন্ধ্যায় গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি ঘরের তালা খুলতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

এরপর হামিদুল ফকিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, রবিউল ফকিরসহ কয়েকজন তার ঘরে প্রবেশ করে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছেন। এ ঘটনায় ফাতেমা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং রবিউল ফকির, শাহিনুরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

তবে রবিউল ফকিরের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে সাজানো ও মিথ্যা দাবি করা হয়েছে। তাদের দাবী, ওইদিন কোনো মারধর বা শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেনি। ঘরের তালা খোলা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে শুধু কথা-কাটাকাটি ও হট্টগোল হয়েছিল।

এদিকে বিরোধের মধ্যে নতুন করে গ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী অরাজনৈতিক ক্লাবে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয়রা বলেন, ঘটনার রাতে কে বা কারা ক্লাবটিতে হামলা চালিয়ে সেখানে থাকা একটি ভাঙা চেয়ার ও একটি ব্যানারে আগুন ধরিয়ে দেয়।

রবিউল ফকিরের পক্ষের লোকজনের অভিযোগ, ক্লাবে আগুন দেওয়ার দায়ও তাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।

এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, মারামারির বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ ও অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button