
নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি ভুলু সরকার কারা হেফাজতে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
জেল সুপারের দাবি, মাদক কেনার অর্থ জোগাড় করতে তিনি গত চার মাসে আটবার নিজের শরীরের রক্ত বিক্রি করেছিলেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বগুড়া জেলা কারাগার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
মৃত ভুলু সরকার বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া হিন্দুপাড়ার মৃত অজিত সরকারের ছেলে।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হওয়ার পর ভুলু সরকারকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজা ভোগের জন্য গত ৩ সেপ্টেম্বর তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
কারাগারে যাওয়ার তিন দিন পর গত ৬ সেপ্টেম্বর অসুস্থ হয়ে পড়েন ভুলু সরকার। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ওই দিনই তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
বগুড়া জেলা কারাগারের জেল সুপার মো: আসাদুর রহমান বলেন, ভুলু সরকার নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। কারাগারে দেওয়ার আগে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, মাদক কেনার অর্থ সংগ্রহ করতে তিনি গত চার মাসে আটবার নিজের শরীরের রক্ত বিক্রি করেছেন।
জেল সুপার আরও জানান, ভুলু সরকার পরিবারের কাছে বিষয়টি গোপন রেখে নিয়মিত রক্ত বিক্রি করতেন। রক্ত বিক্রি করে পাওয়া অর্থ তিনি মাদক কেনার কাজে ব্যয় করতেন বলে তার স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে।
কারা কর্তৃপক্ষ বলেন, মাদকাসক্তির কারণে নিজের শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকি নিয়েও তিনি মাদক কেনার অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করতেন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।


