বগুড়ায় ৩৫ লাখ টাকার ৯৪টি চোরাই মোবাইল উদ্ধার
আন্তঃজেলা চোরচক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ার ধুনটে একটি মোবাইল ফোনের দোকানে চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোরচক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি যাওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইলগুলোর আনুমানিক মূল্য ৩৫ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় (১ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান।
পুলিশ জানায়, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে ধুনট বাজারের ইসামতি ডিজিটাল কমপ্লেক্সে এ চুরির ঘটনা ঘটে। মার্কেটের প্রথম তলায় ‘মাসুদ টেলিকম’ নামের দোকানের শাটারের তালা ভেঙে চোরেরা দোকানে প্রবেশ করে। পরে গ্যালারিতে সাজানো বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯৪টি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় দোকানের মালিক মোঃ মাসুদ রানা (৪২) ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর থানায় মামলা রুজু করা হয়। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই মোঃ ওসমান গনীর ওপর।
পুলিশের তথ্যমতে, ঘটনার পর ধুনট থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার তথ্য সংগ্রহ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং স্থানীয় সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে।
পরে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে সিরাজগঞ্জের যমুনা পশ্চিম সেতু থানার টোল প্লাজায় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় চুরি যাওয়া ৯৪টি স্মার্টফোনসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, চট্টগ্রামের বায়েজীদ বোস্তামী থানার সৈয়দপাড়া এলাকার মোঃ আল আমিন (৩০), বাকলিয়া থানার সিএমপি বাকুলিয়া এলাকার মোঃ আক্কাস আলী (৩৫), নরসিংদীর রায়পুরা থানার চর মদিনা নগর এলাকার মোঃ ইমরান (৩০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার চব্বাস মোল্লাবাড়ী এলাকার মোঃ ইয়াছিন আরাফাত (৩৮), কুমিল্লার চান্দিনা থানার নওয়াবপুর এলাকার মোঃ রবিউল ইসলাম (৩৩), মুরাদপুর থানার কামাল্লা এলাকার মোঃ আলা উদ্দিন (২৫), লালমাই থানার নুরপুর এলাকার মোঃ ইস্রাফিল রহমান (২৭) এবং চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার ইসমাইল ফয়েজো রোড এলাকার মোঃ হৃদয় (৩৪)।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া সিডিএমএস যাচাই করে তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
উদ্ধার হওয়া ৯৪টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিক শনাক্ত করার পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হস্তান্তর করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।



