আদমদিঘী উপজেলাবগুড়া জেলা
প্রধান খবর

আদমদীঘি সদর ইউপি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী তুহিন,বিএনপিতে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে ঘিরে বগুড়ার আদমদীঘি সদর ইউনিয়নে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। সম্ভাব্য নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তৎপরতা বাড়ছে। বিশেষ করে চেয়ারম্যান পদে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা।

এরই মধ্যে আদমদীঘি সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলীয় প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সভাপতি আহসান হাবীব তুহিনের নাম ঘোষণা করেছে।

গত রোববার (২৫ অক্টোবর) আদমদীঘি উপজেলা জামায়াতের এক অনুষ্ঠানে বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো চেয়ারম্যান পদে কোনো একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। ফলে দলটির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীকে ঘিরে ইউনিয়নজুড়ে আলোচনা বাড়ছে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

জানাগেছে, আদমদীঘি সদর ইউনিয়নে বিএনপি থেকে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আলহাজ শেখ রফি আহম্মেদ আচ্চু, সাবেক সহসভাপতি আলহাজ বেলাল হোসেন সরদার, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান লিখন, উপজেলা বিএনপির সদস্য দেলোয়ার হোসেন ছানা, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আকবর খান এবং উপজেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বাপ্পী।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আব্দুর রহিম ও ফেরদৌস হোসেন এবং জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আবু রায়হান রিটুর নাম আলোচনায় রয়েছে।

সম্ভাব্য এসব প্রার্থীর অনেকে ইতিমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। হাটবাজার, পাড়ামহল্লা, চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে তাঁদের উপস্থিতি ও কুশল বিনিময়কে কেন্দ্র করে নির্বাচনী আলোচনা জমে উঠছে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় দলটির মনোনয়ন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

আদমদীঘি সদর ইউনিয়নে জামায়াতের পক্ষ থেকে একজন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে, বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে থাকায় দলটির তৃণমূল পর্যায়ের কিছু নেতাকর্মী ও সমর্থকের মধ্যে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে।

স্থানীয় বিএনপির সমর্থকদের প্রত্যাশা, দলীয়ভাবে দ্রুত একজন প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হলে নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে এবং নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে। তবে দলটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ অবস্থান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সামাজিক যোগাযোগ, স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীদের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আদমদীঘি সদর ইউনিয়নেও এসব বিষয় নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর আহসান হাবীব তুহিন গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে, সে জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”

তিনি আরও বলেন, “ইউনিয়নবাসীর সেবা করা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন করাই আমার মূল লক্ষ্য। আমি নির্বাচিত হতে পারলে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে কাজ করতে চাই। এ জন্য সবার ভালোবাসা ও দোয়া কামনা করছি।”

আদমদীঘি সদর ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। ফলে আগামী দিনে দলীয় মনোনয়ন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাংগঠনিক তৎপরতা এবং ভোটারদের সমর্থন আদায়ের প্রচেষ্টা স্থানীয় নির্বাচনী আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

তবে আগামী জানুয়ারিতে প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে সরকারের ঘোষণার যে তথ্য স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে, তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও নির্বাচন কমিশনের তফসিল প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তফসিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নির্বাচনের সময়সূচি ও পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারিত হবে।

সব মিলিয়ে, আদমদীঘি সদর ইউনিয়নে সম্ভাব্য ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা এবং বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর তৎপরতায় আগামী দিনগুলোতে স্থানীয় নির্বাচনী পরিস্থিতি আরও সরগরম হয়ে উঠতে পারে।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button