প্রধান খবরবগুড়া জেলা

জব্দকৃত ফোন ফিরে পাচ্ছেন বগুড়া আ. হক কলেজের শিক্ষার্থীরা

বগুড়া লাইভে সংবাদ প্রচারের পর সরকারি আজিজুল হক কলেজের একাদশ শ্রেণী থেকে জব্দকৃত ফোনগুলো ফিরে পেতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা।

গতকাল শনিবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের কাছে অঙ্গীকারনামা গ্রহণ করে তাদের ফোন ফিরিয়ে দেয়া শুরু করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এর আগে, গত ১৫ই জুন বগুড়া আ. হক কলেজে ৮ লক্ষ টাকার ফোন জব্দ: শিক্ষকের অস্বীকার শিরোনামে সংবাদ প্রচার করে বগুড়া লাইভ। সেখানে সরকারি আজিজুল হক কলেজের সহকারী ইনচার্জ মুস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি অস্বীকার করায় কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বেশ কয়েকটি আই ফোন সহ প্রায় অর্ধশত মোবাইল ফোন জব্দ করে তা ধাপা-চাপা দেয়ার অভিযোগ উঠে নিউজ প্রচার করে বগুড়া লাইভ।

আর তারপরই নড়ে-চড়ে বসে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন অনতিবিলম্বে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ডেকে ফোন গুলো ফিরিয়ে দেয়ার জন্য। এ সময় তারা আরও সিদ্ধান্ত নেয় যে, বগুড়া লাইভের সাথে কোন শিক্ষার্থী যোগাযোগকারী/তথ্য প্রদানকারী খুঁজে পেলে তাকে সরাসরি টিসি দিবে কলেজ কর্তৃপক্ষ যা একাদশ শ্রেণীর ক্লাসে জানিয়ে হুমকি দিচ্ছেন শিক্ষক।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন আজিজুল হক কলেজ ইন্টারমিডিয়েট ভবনে একজন ছাত্রকে ক্লাসরুমে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় দেখে ফেলেন উক্ত ভবনের সহকারী ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান। সে সময় ছাত্রকে বেধড়ক মারধর করেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই সেকশনের প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর ব্যাগ ও শরীর চেক করা হয় এবং মোট প্রায় অর্ধশত মোবাইল ফোন ও অনেকের আইডি কার্ড জব্দ করা হয়৷ শরীর চেক করা থেকে রেহাই পায়নি ছাত্রীরাও। বিস্তারিত পড়ুন এ খবরে 👉 বগুড়া আ. হক কলেজে ৮ লক্ষ টাকার ফোন জব্দ: শিক্ষকের অস্বীকার

জব্দকৃত মোবাইল ফোনগুলোর মোট আনুমানিক মূল্য ছিলো প্রায় ৮(আট) থেকে ১০(দশ) লক্ষ টাকা। তবে ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও সেই সকল শিক্ষার্থীদের পরিবারের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ/ যথাযথ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে এক বিশেষ ক্ষোভ তৈরী হয়।

এদিকে, এর আগেও একই শিক্ষকের বিরুদ্ধে টিফিন পিরিয়ডে একজন ছাত্রীর হাতে থাকা মোবাইল ফোন নিয়ে সাথে সাথে ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ এবং বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের সাথে বাজে আচরণ এবং, নানাভাবে অপমান ও হেনস্থা করার অভিযোগ পাওয়া যায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

ঘটনার সত্যতা জানতে এবং বিষয়টি সম্পর্কে জানতে গত ১৫ জুন শিক্ষিকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বগুড়া লাইভ। সে সময় বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের সহকারী ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, এমন কোন ঘটনায় কলেজে ঘটেনি। তবে তার আগে সোমবার কলেজ চলাকালীন এক শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল পাওয়া যায় এবং ফোন নিয়ে তাকে বলা হয় অভিভাবককে সঙ্গে এনে ফোনটি নিয়ে যেতে।

পরে এ বিষয়ে কলেজের প্রিন্সিপালের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বগুড়া লাইভকে জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। ক্লাসে অমনোযোগী হবার কারনে এবং নিষেধাজ্ঞা সত্বেও মোবাইল ব্যবহার করায় ফোনগুলো নেয়া হয়েছে। অভিভাবক উপযুক্ত কারন দেখানোর পর ফোন নিয়ে যেতে পারবেন। তবে কতগুলো ফোন জিজ্ঞেস করা হলে তিনি সঠিক করে সংখ্যা জানাতে পারেন নি।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button