বগুড়া সদর উপজেলা

আদর্শবান শিক্ষক শ্যামল ভট্টাচার্যের দেহ গবেষণায় দান

বগুড়ার বিশিষ্ট নাট্যশিল্পী বগুড়া জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক শ্যামল রঞ্জন ভট্টাচার্য্য মরণোত্তর দেহ দান করেছেন। শিক্ষক শ্যামল রঞ্জন ভট্টাচার্য্য এর মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এনাটমি বিভাগে নেওয়া হবে। 

প্রয়াত শিক্ষক শ্যামল রঞ্জন ভট্টাচার্য্য এর পারিবারিকভাবে জানা গেছে, নাট্যশিল্পী ও শিক্ষক শ্যামল রঞ্জন ভট্টাচার্য্য মৃত্যুর আগেই নিজের মরদেহ মেডিকেল শিক্ষার্থী ও এনাটমি বিভাগের গবেষণার জন্য দান করে যান। মৃত্যুর আগে মৌখিকভাবে বলে গেলেও মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার দুপুর দুটায় আইনী প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ রেজাউল আলম জুয়েল এর মাধ্যমে এনাটমি বিভাগে হস্তান্তর করা হয়।

শ্যামল ভট্টাচার্য বুধবার (০৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভূগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে এবং এক মেয়েসহ অসংখ্যক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

শ্যামল ভট্টাচার্য ১৯৩৯ সালের ১০ আগস্ট বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ সালের ১৬ জানুয়ারি বগুড়া জিলা স্কুলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল আর্টস বিষয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে জনপ্রিয়তা পান। এছাড়া সংস্কৃত এবং আরবি ভাষাতেও তিনি সমান দক্ষ ছিলেন। প্রায় ৩৩ বছর শিক্ষকতা শেষে ২০০০ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। ডিপ্লোমা প্রকৌশলী শ্যামল রঞ্জন ভট্টাচার্য শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়ার আগে ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধ শেষে তৎকালীন গ্রেটার চিটাগাং ইলেকট্রিসিটি বোর্ডে সাব অ্যাসিসটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন।

ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতি সচেতন শ্যামল ভট্টাচার্য ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বগুড়ায় ৩০০ ছাত্রকে নিয়ে মিছিল বের করেছিলেন। অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় তিনি নিজ মহল্লা জলেশ্বরীতলা এলাকার নিরক্ষরদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে সহপাঠীদের নিয়ে নৈশ বিদ্যালয় চালু করেছিলেন। দশম শ্রেণীতে অধ্যয়নের সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের জেলা কমিটির পাঠাগার সম্পাদক মনোনীত হয়েছিলেন।

শিক্ষা দিয়ে মানুষকে আলোকিত করার উদ্যোগটি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অব্যাহত রেখেছিলেন শ্যামল ভট্টাচার্য। তার উদ্যোগেই বগুড়ায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। শিক্ষার পাশাপাশি নাট্য আন্দোলনের সঙ্গেও সস্পৃক্ত ছিলেন শ্যামল ভট্টাচার্য।

১৯৭২ সালে তিনি বগুড়া নাট্য গোষ্ঠী নামে একটি নাটকের দল গঠন করেন। নাট্যমঞ্চের নিয়মিত শিল্পী শ্যামল ভট্টাচার্য ১৯৮৭ সালে ‘বগুড়া নাট্য দল’ নামে নতুন আরও একটি একটি দল গঠন করেন। নাট্য আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে নতুন মুখ তৈরিতেও কাজ করে গেছেন তিনি।  

এজন্য শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে বগুড়া নাট্য দলের কার্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস নিতেন গুণী এই নাট্য ব্যক্তিত্ব। সর্বশেষ ২০১৩ সালে ‘খারিজ’ নামে একটি নাটকে অভিনয় করেন শ্যামল ভট্টাচার্য।

তার মৃত্যুতে শোকবার্তা দিয়েছে বগুড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার, বগুড়া থিয়েটার, কলেজ থিয়েটার, শব্দকথন সাহিত্য আসর, জাতীয় কবিতা পরিষদ বগুড়া জেলা শাখা, প্রকাশ শৈলী, ভোরহলো, বগুড়া বাউল গোষ্ঠি, আনন্দকণ্ঠ, নান্দনিক নাট্য দল, সংশপ্তক থিয়েটার, থিয়েটার আইডিয়া, ঘাসফুল, জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গিত সম্মিলন পরিষদ, বগুড়া নাট্যগোষ্ঠি, বগুড়া নাট্যদলসহ বগুড়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন সংগঠন।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button