
মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষ সমবেত হয়েছেন। শনিবার (৪ জুলাই) শুরু হওয়া প্রায় সপ্তাহব্যাপী শোকানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি নিজেদের অবস্থান ও প্রতিরোধের বার্তা দিতে চায় ইরান।
শিয়া ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে কালো পোশাক পরে এবং লাল পতাকা হাতে হাজারো মানুষ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে জড়ো হন। ১৯৮৯ সাল থেকে টানা কয়েক দশক ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন।
দীর্ঘ শাসনামলে তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে ভিন্নমত দমনে কঠোর নীতি অনুসরণ করেছিলেন।
প্রচণ্ড গরম ও প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেও শোকাহত মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সমবেত জনতাকে স্বস্তি দিতে প্রাঙ্গণে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা হয়। নারী ও পুরুষ আলাদা সারিতে দাঁড়িয়ে বুক চাপড়ে শোক প্রকাশ করেন।
মূল মঞ্চে রাখা হয় আলী খামেনির কফিন। তার পাশে বিমান হামলায় নিহত পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিনও রাখা হয়। এর মধ্যে ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়গানির ছোট কফিন উপস্থিত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এ সময় সমবেত জনতা ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ চাই’ স্লোগান দেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল শোকানুষ্ঠান বর্তমান সরকারের প্রতি জনসমর্থনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। বিশেষ করে সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভ ও তা দমনে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের পর এই জনসমাগমকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও দুই পক্ষই ভবিষ্যতে আবারও সংঘাত শুরু হওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছে। এদিকে শোকানুষ্ঠান চলাকালে তেহরানের অনেক ব্যস্ত সড়ক তুলনামূলক ফাঁকা দেখা গেছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে অনেক বাসিন্দা সাময়িকভাবে শহর ছেড়ে গেছেন বলেও জানা গেছে।
খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় থাকা তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি। একই হামলায় তিনি আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার দেশটির শীর্ষ নেতারা বিদেশি প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেন। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং রেভল্যুশনারি গার্ডসের নবনিযুক্ত প্রধান আহমদ ওয়াহিদি জনগণকে ব্যাপকভাবে শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, রাজধানী তেহরানেই এক কোটির বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার পর এটিকে ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জনসমাগমগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সতর্কতামূলক নির্দেশনাও প্রচার করা হচ্ছে।
সরকারি সূচি অনুযায়ী, তেহরানে তিন দিন কফিন রাখার পর তা ধর্মীয় নগরী কোমে নেওয়া হবে। এরপর ইরাকে শোকানুষ্ঠান শেষে সর্বশেষ খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে।
সূত্র: হুরিয়েত ডেইলি নিউজ।