
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে যাত্রীবাহী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় মাঝিসহ ১০ জন নিখোঁজ হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনো এক নারী নিখোঁজ রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের বানিয়ারযান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে স্থানীয় জেলে, ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের সদস্যরা নদীতে অভিযান চালাচ্ছেন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, সকালে বানিয়ারযান এলাকা থেকে নয়জন নারী জীবিকার সন্ধানে বৈশাখী চরে যান। সেখানে তারা অন্যের জমিতে ভুট্টা তোলার কাজ করছিলেন। সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে তারা একটি নৌকায় করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। নৌকাটিতে নয়জন নারী যাত্রী ও একজন মাঝি ছিলেন। মাঝনদীতে পৌঁছালে প্রবল ঝড় ও তীব্র স্রোতের কারণে নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে ডুবে যায়। এতে সবাই পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন।
নিখোঁজ আঙ্গুরী খাতুনের মেয়ে লাবনী খাতুন জানান, তার বাবা মো. লালমিয়া (৫০) দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। সংসারের হাল ধরতে তার মা প্রতিদিনের মতো এদিনও দিনমজুরের কাজ করতে বৈশাখী চরে গিয়েছিলেন। কিন্তু ফেরার পথে নৌকাডুবির ঘটনায় তিনি নিখোঁজ হন। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপর মায়ের খোঁজে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার মেঘাই ঘাট পর্যন্ত নৌকা নিয়ে যান কিন্তু কোন সন্ধান পাননি।
জহুরুল ইসলাম জানান, নিখোঁজ আঙ্গুরী খাতুনের বয়স প্রায় ৪৫ বছর। খবর পেয়ে রাজশাহী থেকে চার সদস্যের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও তার সন্ধান মেলেনি।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, স্থানীয়দের সহায়তায় মাঝিসহ ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে নদীতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
