ধুনটে স্কুল সভাপতির বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

বগুড়ার ধুনট উপজেলার বিলকাজুলী পেঁচিবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা থাকার পরও অবৈধভাবে ৪টি পদে নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় বুধবার দুপুুরে বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির দাতা সদস্য রেজাউল করিম বাদি হয়ে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিলকাজুলী পেঁচিবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক, নিরাপত্তা কর্মী, নৈশপ্রহরী ও আয়ার শুন্য পদে জনবল নিয়োগের জন্য ২২ মার্চ ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি চারটি পদে জনবল নিয়োগের জন্য পৃথক দুইটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তার মনোনিত ৪ প্রার্থীর কাছে থেকে ৪৫ লাখ টাকা নিয়ে তাদের চুড়ান্ত করে রাখেন। প্রার্থীদের কাছ থেকে সভাপতির টাকা আদায়ের কল রেকর্ড ভাইরাল হলে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য রেজাউল করিম বাদি হয়ে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ২২জুন বগুড়া আদালতে একটি মামলা (নং ১৩৯/২০২৩) দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরও সভাপতি কৌশলে অবৈধভাবে নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করেন। এক পর্যায়ে ২৪ জুন ৪টি পদে বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় সহকারি শিক্ষক পদে ০৭ জন, নিরাপত্তা কর্মী পদে ১০ জন, নৈশ প্রহরী পদে ০৫ জন এবং আয়া পদে ০৩ প্রার্থী অংশ নেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের (মাউশি) প্রতিনিধি বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন অর রশীদ ও ধুনট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল ইসলামের উপস্থিতিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে আবু সাইদ, নিরাপত্তা কর্মী পদে সঞ্জয় কুমার, নৈশপ্রহরী পদে বিপ্লব ও আয়া পদে মনি বালাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীরা অপেক্ষাকৃত কম মেধা সম্পন্ন।
নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদ প্রত্যাশী আবু নাসের রায়হান বলেন, ‘আমাকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে নিয়োগ পরীক্ষার দুই মাস আগে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ ২ লাখ টাকা অগ্রীম নিয়েছিলেন। লেনদেনের প্রমাণ আমার কাছে আছে। সভাপতির সাথে আমার ৮ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু বেশী টাকা নিয়ে অন্য প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি।
নিরাপত্তা কর্মী পদ প্রত্যাশী গৌরব কুমার বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সভাপতি নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে পরীক্ষার ছয় মাস আগে সাড়ে ৮ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। আমার সাথে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল। সভাপতি ওই পদে ১৩ লাখ টাকা নিয়ে অন্য একজনকে নিয়োগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, ৪টি পদে নিয়োগে প্রার্থীদের কাছ থেকে আর্থিক লেনদেন করা হয়নি। আদালতে সময়ের আবেদন করে নিয়োগ কার্যক্রম চুড়ান্ত করা হয়েছে। তবে দুই একদিনের মধ্যে আদালতে জবাব দেওয়া হবে। নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।
ধুনট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম বলেন, মাউশির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরীক্ষা নিয়েছেন ম্যানেজিং কমিটির লোকজন। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম মাত্র।
ধুনট উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) জানে আলম বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার আগে এ ধরণের একটি অভিযোগ পেয়ে তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তবে একই ঘটনায় বুধবার (৫জুলাই) দেওয়া অভিযোগটি হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



