
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও কমেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে পারে। তার ওই মন্তব্যে তেলের দাম কমার ধারায় সাময়িক বিরতি এলেও শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর আবারও মূল্যহ্রাস শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে যায়। গ্রিনিচ মান সময় ভোর সাড়ে চারটায় আগস্টে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলার ৭ সেন্টে। ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এই দাম মাত্র ৭ শতাংশ বেশি।
এর আগে বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮১ ডলারের ওপরে উঠেছিল। এর পেছনে ট্রাম্পের মন্তব্যকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হয়। তিনি বলেছিলেন, ইরান ‘ভালো আচরণ’ না করলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও দেশটিতে হামলা চালাতে পারে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের সরবরাহ সংকট কাটার সম্ভাবনায় এশিয়ার বিভিন্ন শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা গেছে। জাপানের প্রধান শেয়ারসূচক নিক্কেই ২২৫ দুই শতাংশের বেশি বেড়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচকও ১ দশমিক ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
তাইওয়ানের তাইএক্স সূচকও সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তবে ব্যতিক্রম ছিল হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক, যা ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।
মার্কিন শেয়ারবাজার খোলার আগেও ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমলে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপও হ্রাস পাবে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করবে এবং একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেবে।
তবে এই ঘোষণার পরও গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল।
বর্তমানে প্রায় ৫০০টির বেশি জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চল ত্যাগের অপেক্ষায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তাদের মতে, জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা এবং কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, শান্তিচুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর যুদ্ধজনিত চাপ অনেকটাই কমে আসবে। তবে চুক্তির দীর্ঘমেয়াদি সফলতা নির্ভর করবে উভয় পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো